TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউরোপে নতুন সীমান্ত ব্যবস্থা চালু—ভ্রমণকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল নিবন্ধন

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণকারীদের জন্য চালু হয়েছে নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যার ফলে পাসপোর্টে সিল দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতির অবসান ঘটছে। “এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম” নামে পরিচিত এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের সব ভ্রমণকারীকে সীমান্তে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় নিবন্ধন করতে হবে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ধাপে ধাপে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা এখন সেনজেন অঞ্চলের দেশগুলোতে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে এখনো সব দেশ পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে জানা গেছে। বিশেষ করে কিছু দেশে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির পরিবর্তে এখনো হাতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা ভ্রমণকারীরা—যেমন যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা—যদি ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য ভ্রমণ করেন, তাহলে তাদের এই সিস্টেমের আওতায় নিবন্ধন করতে হবে। প্রথমবার ভ্রমণের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম, ভ্রমণ নথির তথ্য, আঙুলের ছাপ এবং মুখের ছবি দিতে হবে।

১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তাদের মুখের ছবি সংগ্রহ করা হবে। ভ্রমণকারীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের তারিখ ও স্থানও এই সিস্টেমে সংরক্ষণ করা হবে।

যুক্তরাজ্য থেকে যেসব ভ্রমণকারী ডোভার বন্দর, ফোকস্টোন ইউরোটানেল বা সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশন ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশ করেন, তাদের ক্ষেত্রে যাত্রার আগেই এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য নির্দিষ্ট স্থানে ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে তথ্য দিতে হবে।

যদিও ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালুর ঘোষণা দিয়েছে, বাস্তবে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে এখনো প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়ে গেছে। ফলে অনেকক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পরিবর্তে সীমান্ত কর্মকর্তারা হাতে তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্নভাবে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কারণে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে।

এই সিস্টেমে সংগ্রহ করা তথ্য তিন বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে পুনরায় ভ্রমণ করলে ভ্রমণকারীদের শুধু আঙুলের ছাপ বা মুখের ছবি দিয়ে দ্রুত প্রবেশ ও প্রস্থান করা সম্ভব হবে। তবে কেউ যদি বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে তাকে সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থা সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, দ্রুত ও কার্যকর করবে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজে যান চলাচল বন্ধ

স্ত্রীর মৃত্যুতে ভিসা বাতিল, ফেরত মিলল না আবেদন ফি’সঃ হোম অফিসের অমানবিকতা

লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় ষাঁড়ের আগমন – বাংলাদেশও অবাক!