TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানি প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কেঃ দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তার প্রতিনিধিদল কীভাবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জাতিসংঘে থাকা ইরানি প্রতিনিধিরা কীভাবে দেশে ফিরবেন, তা তিনি নিশ্চিত নন। গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান চলাচল-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে। পেজেশকিয়ান ও তার প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন এবং পাঁচ দিনের সফর শেষে শনিবার তেহরানে ফেরার কথা রয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবশিষ্ট সক্রিয় বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। এর আওতায় ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানের বিমান খাতকে জ্বালানি সরবরাহ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
বুধবার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। স্কট বেসেন্টের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশেরও বেশি বন্ধ হয়ে গেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে ইরানিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।
তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি। আজারবাইজানের সঙ্গে কিছু ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাগদাদ ও মাসকাটগামী কিছু ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। এদিকে তুর্কিশ এয়ারলাইনসও ইরানে তাদের ফ্লাইট অন্তত ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও বুধবার ইরান থেকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করেছে। ব্লুমবার্গের উদ্ধৃত ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে ব্যাংকক, ফুকেট, সাংহাই ও কাবুলসহ বিভিন্ন গন্তব্যে অন্তত ছয়টি ফ্লাইট ছেড়ে যায়।
পেজেশকিয়ান অবশ্য সাধারণ কোনো নির্ধারিত ইরানি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে নিউইয়র্কে যাননি। তিনি এয়ারবাস এ৩৪০ বিমানে নিউইয়র্কে পৌঁছান। বিমানটি পরিচালনা করে ইরানের তুলনামূলক অপরিচিত এয়ারলাইন আশিয়ানে।
আশিয়ানে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করে না এবং সাধারণ যাত্রীদের কাছে টিকিটও বিক্রি করে না। পেজেশকিয়ান তেহরান ছাড়ার সময় বিমানটি যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে বিমানটি জ্বালানি নেওয়ার জন্য আলজেরিয়ায় থেমেছিল।
পেজেশকিয়ান একই বিমানে নিউইয়র্ক থেকে তেহরানে ফিরবেন কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্রঃ গালফ নিউজ \ ফক্স নিউজ \ ব্লুমবার্গ
এমকে

আরো পড়ুন

ভারতীয় সীমান্তে হেলিপোর্ট বানাচ্ছে চীন, আরও চাপে ভারত

ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে থাকা যুক্তরাজ্যের নাগরিককে ধরেছে রুশ সেনারা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অভিনন্দন জানালেন পুতিন