প্রাথমিক সামরিক অভিযানের পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের বিস্মিত করেছে। মার্কিন সাময়িকী “টাইম”-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপকতা সম্পর্কে আগাম সঠিক ধারণা করতে পারেননি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, ইরান সীমিত পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে—যেমনটি ২০২৫ সালে দেখা গিয়েছিল, যখন তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতীকী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বাস্তবে ইরান প্রায় পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত আক্রমণ চালিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, তিনি ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাত্রা দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েন এবং উপলব্ধি করেন যে পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে মনে করেছিলেন, এটি ভেনেজুয়েলায় বছরের শুরুতে পরিচালিত সামরিক অভিযানের মতো একটি দ্রুত ও এককালীন অপারেশন হবে।
তবে ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত পাল্টে যায়, যখন ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়—যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশলগত পদক্ষেপ শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব পরিকল্পনা ও হিসাব-নিকাশ ভেস্তে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এই সংঘাতের প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

