TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৬, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিঃ ‘গুলি চললে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে’

ইরানে টানা কয়েক দিনের গণবিক্ষোভে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে”।

 

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং সহিংসভাবে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে হস্তক্ষেপের জন্য। তিনি লেখেন, “আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও হামলার জন্য তৈরি।” তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত জানাননি।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী লারিজানি পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইরানে বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে বৃহস্পতিবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও মানবাধিকার সংগঠন হেংগাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লোরদেগানে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন। পশ্চিম ইরানের আজনা শহরে তিনজন এবং কুহদাশতে আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

হেংগাও দাবি করেছে, লোরদেগানে নিহত দুইজনই ছিলেন বিক্ষোভকারী, যাদের নাম আহমদ জলিল ও সাজ্জাদ ভালামানেশ। তবে ফার্স নিহতদের পরিচয় স্পষ্ট করেনি। বিবিসি এসব মৃত্যুর ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ এবং গাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। বিবিসি পার্সিয়ান লোরদেগান, তেহরান এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের মারভদাশতে সংঘটিত বিক্ষোভের ভিডিও যাচাই করেছে।

এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, বুধবার কুহদাশতে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ভিন্ন; তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত একজন বিক্ষোভকারী ছিলেন। এ তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

রোববার তেহরানে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়, যখন উন্মুক্ত বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র দরপতনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দিলে তা দ্রুত বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভকারীরা দেশটির ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে আন্দোলন আরও রাজনৈতিক রূপ নেয়। অনেক বিক্ষোভকারী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করেন, কেউ কেউ রাজতন্ত্র পুনর্বহালের কথাও বলেন। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনের পর এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও তখনকার মতো ব্যাপক নয়।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের “যৌক্তিক দাবিগুলো” শোনার আশ্বাস দিচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে দেশটির প্রসিকিউটর-জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া ভাষা এবং পাল্টা হুমকির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

মালদ্বীপে ইসরাইলিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ

মালয়েশিয়ার স্টোরে মোজায় আল্লাহর নাম, ৮৮ লাখ ডলারের মামলা

বিশ্ব অর্থনীতি যাচ্ছে এশিয়ার দখলে