মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিভিন্ন শহরে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে মানববন্ধন গড়ে তুলেছেন সাধারণ মানুষ। বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকির প্রতিবাদে নাগরিকদের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত আটটা, যা ব্রিটিশ সময় রাত একটার সমান—এই সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না পৌঁছালে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে “আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।” তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে জড়ো হয়ে হাতে হাত ধরে মানববন্ধন তৈরি করেছেন। অনেকের হাতে ছিল ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকা, যা তাদের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এসব কর্মসূচি সরকারিভাবে সংগঠিত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে এক ইরানি কর্মকর্তা জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একসঙ্গে দাঁড়িয়ে জানান দিন—জনসাধারণের অবকাঠামোর ওপর হামলা একটি যুদ্ধাপরাধ।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউকে ও কানাডা পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। উভয় দেশই উত্তেজনা না বাড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত এখনো দেয়নি তেহরান। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

