ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সমন্বিত সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন স্থল অভিযান শুরু করেছে এবং বিমান হামলা জোরদার করেছে, ফলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েত সিটিতেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডান ও জেরুজালেমের আকাশসীমার ওপর দিয়ে ছোড়া চারটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের নিকটবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে একে দ্রুত ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান দৃঢ় রাখার কথা বললেও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে অর্থ, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ও জনসমর্থনের বিষয়টি বড় হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা তেহরানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে ঠেলে দিতে পারে। তার মতে, বিস্তৃত সংঘাত পারমাণবিক বিস্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, ঝুঁকিতে থাকা প্রায় চার লাখ ফরাসি নাগরিককে প্রয়োজন হলে বাণিজ্যিক ও সামরিক ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ থাকায় প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক অভিযান নিয়ে তাৎক্ষণিক ভোটের সম্ভাবনা কম। সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তন আনা সহজ হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র, ওয়ারহেড ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের মজুত সীমাহীন নয়। প্রতিরক্ষা উৎপাদন অব্যাহত না থাকলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কতদিন সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকবে, তা নির্ভর করবে সামরিক সক্ষমতা, অর্থায়ন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

