TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বদলঃ প্রতিরক্ষা নীতিতে চাপে যুক্তরাজ্য

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বৃদ্ধি পাওয়ায় “প্রতিরক্ষামূলক হামলা” সংক্রান্ত যুক্তরাজ্যের অবস্থান এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিত দেওয়ায় প্রতিরক্ষা ও আক্রমণের মধ্যকার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছেন, তিনি কেবলমাত্র প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবেন, তাও ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যকে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যদিও সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে দূরে থাকার অবস্থান বজায় রেখেছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, এ ধরনের হামলায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়েও তিনি উদ্বিগ্ন নন। ফলে যুক্তরাজ্যের ঘোষিত নীতির বাস্তবতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক অভিযানের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা শুরু করে, তবে যুক্তরাজ্যের অবস্থান আরও বেশি চাপের মুখে পড়বে, এমনকি সেই হামলা ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে পরিচালিত না হলেও।

এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকার তাদের আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক মিত্রদের সম্মিলিত আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে কাজ করছে। তবে শুরু থেকেই এই ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ, যারা মনে করেন এই সংঘাতে প্রতিরক্ষা ও আক্রমণের বিভাজন এতটা সরল নয়।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াই সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয়। তাদের মতে, পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যেরও তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যুক্তরাজ্য এখনও তাদের অবস্থান বজায় রাখতে পারে, যদি তারা স্পষ্টভাবে সীমা নির্ধারণ করে দেয়—যেমন, শুধুমাত্র মিত্র দেশগুলোর দিকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এবং সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ না নেওয়া।

তবে উভয় পক্ষই একমত যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য তাদের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিকল্পনা যদি আরও পরিবর্তিত হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যের জন্য এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও সামরিক কৌশলের জটিল সমীকরণে যুক্তরাজ্যের অবস্থান এখন গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষার মুখোমুখি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ডাইনি সন্দেহে আসামে পুড়িয়ে মারা হলো নারীকে

ভারতের আদানি গ্রুপের প্রতারণা: শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধস!

যুক্তরাজ্যে অষ্টমবারের মতো জামিন খারিজ ভারতের পলাতক ব্যবসায়ী নিরব মোদির