TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ স্বীকার করলেন ফারাজঃ ট্রাম্পের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন ট্রাম্প। এতে তার সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফারাজ বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি রক্ষার ক্ষেত্রে ভালো ছিলেন। কিন্তু বিদেশে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি তিনি ভঙ্গ করেছেন। যুদ্ধ শুরুর আট মাসের মধ্যে এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও ডিজেলের দামে।

ফারাজের মতে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান যুদ্ধ ভুল ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফারাজ বলেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ধীর করার লক্ষ্যকে সমর্থন করলেও যুদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে পরে আবার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এতে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষায়, এটি ছিল পরিস্থিতি মোকাবিলার অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ পদ্ধতি। তবে তিনি আগামী আট মাস কিংবা তিন বছর ধরে যুদ্ধ চালানোর পক্ষে ছিলেন না।

অথচ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ফারাজ। তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে পরিচিত ফারাজ যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক মাগা সমাবেশেও বক্তব্য দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার অবস্থানের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।

শুধু ফারাজ নন, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য ইরান সংঘাতকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে দলকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, মেইন ও আইওয়ার মতো রিপাবলিকান-প্রভাবিত অঙ্গরাজ্যে সিনেট আসন জয় করেছে। এই ফলাফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দায়িত্বে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ট্রাম্প বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকেও দায়ী করার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ফ্লোরিডার বিদায়ী গভর্নর রন ডিস্যান্টিসকে হেগসেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় আনা হয়েছে।

তবে নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য ইরান যুদ্ধ দায়ী—এমন বক্তব্যকে ট্রাম্প আংশিকভাবে সত্য বলে স্বীকার করলেও তিনি জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতেন।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ইরান সংঘাতের অবসান এবং বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

অ্যান্টিগুয়া থেকে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহাম বলেন, এখন বিশ্বের সামনে একটি সুযোগ এসেছে, যেখানে সব দেশ একসঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়ে কাজ করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান না হলে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্রঃ এলবিসি

এমকে

আরো পড়ুন

এখনও ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে নাই

যুক্তরাজ্যে ইউলেজ বিতর্কের পর এবার গ্রুমিং গ্যাং—সাদিক খানের বিরুদ্ধে জবাবদিহির প্রশ্ন

যুক্তরাজ্যের ওল্ডহ্যামে বাড়ির প্রকল্প ঘিরে বিতর্কঃ ‘অপরিবর্তনীয়’ সবুজ উপত্যকা রক্ষায় বাসিন্দাদের প্রতিবাদ