যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তিনি “ক্ষুব্ধ”।
আইটিভি নিউজের সাংবাদিক রবার্ট পেস্টনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দেশের পরিবারগুলো জ্বালানি বিলের ওঠানামায় ভুগছে, ব্যবসাগুলোর খরচও বাড়ছে—এ সবই ঘটছে ভ্লাদিমির পুতিন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতাদের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের কারণে।”
তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে।
স্টারমার ইসরায়েলের লেবাননের উপর চলমান হামলারও সমালোচনা করেন এবং বলেন, এ ধরনের অভিযান বন্ধ হওয়া উচিত।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে একটি “বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা” গ্রহণের ওপর দুই নেতা একমত হন।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধান তৈরি করা।
স্টারমার বলেন, যুদ্ধবিরতির বিস্তারিত সব দিক এখনও পরিষ্কার নয়, তবে তিনি লেবাননে চলমান হামলার বিরোধিতা করেন এবং এটিকে “ভুল” বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এমন একটি দেশ হতে চায়, যেখানে জনগণ বিদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার খরচের অনিশ্চয়তায় না পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশই মূল্যস্ফীতি ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপে পড়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও বেড়েছে। ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের একাধিকবার সমালোচনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

