ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে ফরাসি মালিকানাধীন জাহাজ ‘ক্রিবি’-কে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। মাল্টার পতাকাবাহী এই কন্টেইনার জাহাজটি ফরাসি লজিস্টিক কোম্পানি সিএমএ সিজিএম-এর মালিকানাধীন। এটি যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়া প্রথম পশ্চিমা জাহাজ হিসেবে পরিচিত।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান প্রণালী বন্ধ রেখেছে, যদিও চীন, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের কিছু জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান একটি ‘টোল ব্যবস্থা’ চালু করেছে, যেখানে জাহাজগুলোকে $২০ লাখ পর্যন্ত ফি দিয়ে যেতে হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।
ফরাসি জাহাজের চলাচল ঘটে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বাকযুদ্ধের ঠিক পরপরই। হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেছেন, মন্তব্যগুলো শোভন নয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরান নীতিতে স্থির নন।
উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান আজ একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। দুইজন ক্রু সদস্য বেরিয়ে আসলেও একজন এখনও নিখোঁজ। এতে মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং ইরানের জন্য এটি প্রচারণার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারত এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। ইউক্রেনও প্রণালী পুনরায় খোলায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ প্রস্তাব দিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে পারে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে পারে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক নীতি নয়, তবে এটি ইরানের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

