ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে স্পেন। মাদ্রিদ বলেছে, এ ধরনের কোনো অভিযানে স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং দেওয়া হবে না।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে চালানো হামলাকে “অযৌক্তিক” ও “বিপজ্জনক সামরিক হস্তক্ষেপ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং স্পেন এ ধরনের অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস স্পেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে স্পেনের কোনো ঘাঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জাতিসংঘ সনদ ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সীমার বাইরে কোনো কার্যক্রমে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
আলবারেস বিশেষভাবে নাভাল বেস রোতা ও মোরন এয়ার বেস-এর কথা উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ব্যবস্থাপনার আওতায় এসব ঘাঁটি ব্যবহার করলেও এগুলোর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতে রয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস বলেন, বিশেষ মানবিক প্রয়োজন দেখা দিলে ছাড়া এসব ঘাঁটি থেকে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণের প্রশ্নে স্পেন কঠোর সীমারেখা টেনেছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলারও নিন্দা জানিয়েছে মাদ্রিদ। সরকার বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ স্পেনের ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিমান জার্মানির রামস্টাইন এয়ার বেস-এ অবতরণ করেছে বলে দেখা গেছে। তবে স্পেন সরকার জোর দিয়ে বলছে, এসব উড্ডয়ন ইরানবিরোধী হামলার অংশ নয়।
ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে স্পেনের অবস্থান কিছুটা ব্যতিক্রমী। শুরুতে যুক্তরাজ্যও ঘাঁটি ব্যবহারে অনাগ্রহ দেখালেও পরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার “সম্মিলিত আত্মরক্ষার” যুক্তিতে তা অনুমোদন দেন। ইরানের পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে লন্ডনের অবস্থান বদলালেও মাদ্রিদ এখনো কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌম নীতির প্রশ্নে স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়েছে, যা চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে সামনে এনে দিয়েছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

