TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের ই-ওয়ান বসতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের আহ্বানঃ ব্রিটিশ সরকারের উপর বাড়ছে চাপ

যুক্তরাজ্যের সাবেক শীর্ষ কূটনীতিকদের একদল পশ্চিম তীরে প্রস্তাবিত ইসরায়েলি বসতি প্রকল্প ‘ই-ওয়ান’ নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই বসতি নির্মাণ বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ চিঠিতে ৩২ জন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিক উল্লেখ করেন, ই-ওয়ান প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩,৪০০টি আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য আগামী ১ জুন দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। তাদের ভাষায়, এই নির্মাণকাজ “ফিলিস্তিনি ভূমিতে” ইসরায়েলের ধাপে ধাপে সংযুক্তিকরণ নীতির অংশ।

চিঠিতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী যে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতা জারি করতে হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বসতি সংশ্লিষ্ট পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

সাবেক কূটনীতিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলের শুধুমাত্র কথার নিন্দা ইসরায়েলকে এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এবার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

এর আগে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই উদ্যোগকে “বড় ভুল” আখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানান। একইভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টে বলেন, ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতে ১৯৬৭ সাল থেকে গাজা, পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের দখল অবৈধ। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ায় দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব আরও বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ই-ওয়ান প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর ভৌগোলিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। এতে পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে সংযোগ আরও দুর্বল হবে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা কার্যত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ই-ওয়ান প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে “ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে”।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে এই প্রকল্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

এফবিআই পরিচালকের ব্যক্তিগত ইমেইল হ্যাকঃ ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর দাবি “এটা কেবল শুরু”

সম্পর্ক জোরদারে পাকিস্তান সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারতের কপালে ভাঁজ

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করায় কানাডাকে হুমকি ট্রাম্পের