যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগার ADX ফ্লোরেন্স থেকে মুক্তি পেতে শেষ মুহূর্তের আইনি লড়াই শুরু করেছেন হেইট ক্রাইম বিষয়ক মামলার আসামী ও ধর্মপ্রচারক আবু হামজা। সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত এই বন্দি আদালতে নিজেই নিজের পক্ষে মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তার দীর্ঘ আইনি সংগ্রামের সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০১৫ সাল থেকে কলোরাডোর ADX ফ্লোরেন্স কারাগারে বন্দি থাকা আবু হামজা দাবি করেছেন, সেখানে তার আটকাবস্থা বেআইনি এবং অমানবিক। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে পাঠানো হাতে লেখা চিঠিতে তিনি নিজেকে “প্রো সে পিটিশনার” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানান। এর অর্থ, ব্যয়বহুল আইনজীবী দল বাদ দিয়ে তিনি নিজেই বিচারকের সামনে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। কারাগারের কঠোর নিরাপত্তার কারণে চিঠিপত্র পৌঁছাতে দেরি হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ADX ফ্লোরেন্সে কারাবাসের শর্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছেন আবু হামজা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, তার কৃত্রিম হাত বা হুকের বদলে নড়বড়ে প্লাস্টিকের যন্ত্র দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে দৈনন্দিন কাজ করাও কঠিন। কারাগারের পরিবেশে বারবার কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে নিম্ন নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তরের জন্য করা একাধিক আবেদন ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি কারাগারের পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা করেও কোনো সাফল্য আসেনি। ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসও রায় দিয়েছিল যে ADX ফ্লোরেন্সের অবস্থা অমানবিক আচরণের পর্যায়ে পড়ে না, ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিচার এড়ানোর চেষ্টা ভেস্তে যায়।
এক সময় লন্ডনের ফিন্সবারি পার্ক মসজিদে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া আবু হামজাকে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০১৪ সালে তাকে ১১টি সন্ত্রাসবাদ–সংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যার মধ্যে ইয়েমেনে পর্যটক অপহরণ, সন্ত্রাসীদের সহায়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপনের চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে তিনি আজীবন সাজা ভোগ করছেন।
“রকি পর্বতমালার আলকাট্রাজ” নামে পরিচিত ADX ফ্লোরেন্স বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা কারাগারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে বন্দিদের দিনে ২৪ ঘণ্টাই একাকী সেলে রাখা হয়। আদালত সরাসরি শুনানি ছাড়াই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আবু হামজার এই শেষ আইনি প্রচেষ্টার নিষ্পত্তি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

