যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের এনফিল্ড এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে ৬০–এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। সাতটি স্কুল ও একটি নার্সারিতে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং কয়েকজন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে রাজধানীজুড়ে জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এনফিল্ডের জনস্বাস্থ্য পরিচালক ডুডু শের-আরামি অভিভাবকদের কাছে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন, শহরের বাসিন্দাদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এই সংক্রমণ দ্রুত বিস্তৃত হয়ে “সমগ্র লন্ডনজুড়ে বড় প্রাদুর্ভাবে” রূপ নিতে পারে। তার মতে, রাজধানীতে টিকা গ্রহণের হার দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ; একজন আক্রান্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৮ জন টিকা না নেওয়া মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। রোগটির জটিলতার মধ্যে বধিরতা, মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং প্রায় পাঁচজন আক্রান্ত শিশুর একজনের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এনফিল্ডের বিভিন্ন স্কুলে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর বয়স হওয়ার আগেই এক-পঞ্চমাংশের বেশি শিশু হাম, মাম্পস ও রুবেলার এমএমআর টিকা পায়নি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ও রেডিওতে প্রচারণা চালিয়ে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছে।
রোগটির লক্ষণ সাধারণত সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়ে কয়েক দিনের মধ্যে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং কখনও মুখে ছোট দাগ তৈরি হয়। দ্রুত শনাক্তকরণ ও বিচ্ছিন্নকরণ না হলে সংক্রমণ ব্যাপক আকার নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে এন,এইচ,এস।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা করেছে, ২০২৪ সালে পুনরায় সংক্রমণ শুরু হওয়ায় যুক্তরাজ্য আর হাম নির্মূল করা দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। ওই বছরে দেশটিতে ৩,৬৮১টি সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রোগটি নির্মূল অবস্থায় ছিল।
ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ সালে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৯১.৯% এমএমআর টিকার একটি ডোজ এবং ৮৩.৭% দুই ডোজ পেয়েছে— যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে অন্তত ৯৫% শিশুকে টিকা দেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, টিকা গ্রহণের হার দ্রুত না বাড়ালে রাজধানী থেকে সারা দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং অতীতে নিয়ন্ত্রিত রোগ আবার বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

