অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার সময় দেশে অন্তত ছয় মাসের খাদ্য আমদানির সক্ষমতা এবং ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেখে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এটি দেশের অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে হস্তান্তরের প্রতিফলন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সেখানে অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত, মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়।
শফিকুল আলম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ব্যাংকিং খাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল এবং কয়েকটি ব্যাংক দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছায় বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে রিজার্ভ বর্তমানে বেড়ে ২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদায়ের সময় যে পরিমাণ রিজার্ভ রাখা হচ্ছে, তা দিয়ে অন্তত ছয় মাসের খাদ্য আমদানির ব্যয় নির্বিঘ্নে মেটানো সম্ভব হবে। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে পরবর্তী সরকারের কাছে হস্তান্তর করা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের দেশি ও বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রথমবারের মতো প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণ ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা।
প্রেস সচিব আরও বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফেরার সময় বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ছাত্র অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার সময় দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১৫৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা রেখে যান তিনি।
মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুল আলম দাবি করেন, গত ১৮ মাসে দেশে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, এই সময় সরকারকে ‘ফ্যাসিস্টদের কার্যক্রম’ মোকাবিলা করতে হলেও চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতার মধ্যেই বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাতকে সচল করা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করবে।
সূত্রঃ প্রেস উইং
এম.কে

