11.6 C
London
October 2, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

কক্সবাজার থেকে চীন-মালয়েশিয়ায় সরাসরি আকাশপথঃ আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন দুয়ার

দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার থেকে চীনের কুনমিং এবং মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার সুলভ মূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া কক্সবাজার ও পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কবে থেকে ফ্লাইট শুরু হবে এবং সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজার-কাঠমান্ডু-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকদের কক্সবাজারে আকৃষ্ট করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেও পর্যটক আনার সম্ভাবনা সরকার খতিয়ে দেখছে। সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনা হলো আন্তর্জাতিক রুট বাড়িয়ে কক্সবাজারকে দেশের বাইরে থেকে পর্যটকদের প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

এদিকে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নির্মিত নতুন যাত্রী টার্মিনাল ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার পর নতুন টার্মিনাল দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ সরবরাহের বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি, লিফট, এসকেলেটর এবং বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক যাত্রীসেবা সুবিধা রাখা হয়েছে।

টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্যও বাড়ানো হয়েছে। আগে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৯ হাজার ফুট; সেটি বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়া, চীন ও নেপালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারে যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি বিমানবন্দরটিকে আঞ্চলিক পর্যটন যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাবে।

সূত্রঃ বাসস

এমকে

আরো পড়ুন

দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন মিজানুর রহমান আজহারী

জাপানে প্রয়োজন ১ কোটি কর্মী, সাত দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা

সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ