TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

কনজারভেটিভ ছেড়ে রিফর্ম ইউকে-তে সুয়েলা ব্রাভারম্যানঃ ১১ দিনে তৃতীয় টোরি এমপির দলত্যাগ

সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব সুয়েলা ব্রাভারম্যান কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে নাইজেল ফ্যারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে তিনি তৃতীয় বর্তমান কনজারভেটিভ এমপি, যিনি দলটি ছেড়ে রিফর্ম ইউকে-তে গেলেন। ব্রাভারম্যানের যোগদানে রিফর্ম ইউকের সংসদ সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আটে।

 

লন্ডনে আয়োজিত এক সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দলবদলের ঘোষণা দেন নাইজেল ফ্যারাজ। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্রাভারম্যান জানান, তিনি কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে তার প্রায় ৩০ বছরের সম্পর্কও ছিন্ন করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হচ্ছে আমি ঘরে ফিরে এসেছি,”—যা রিফর্ম সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

তার এই সিদ্ধান্ত আসে রবার্ট জেনরিক ও অ্যান্ড্রু রোজিনডেলের দলত্যাগের পরপরই। চলতি মাসের শুরুতেই তারাও কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দেন। সাম্প্রতিক এই দলবদলগুলো ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনীতিতে কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরের ভাঙনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

২০১৫ সাল থেকে এমপি থাকা সুয়েলা ব্রাভারম্যান বরিস জনসনের সরকারে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে লিজ ট্রাসের অধীনে স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করে সরকারি নথি পাঠানোর অভিযোগে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে রিশি সুনাক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায় তাকে আবার স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ফিরিয়ে আনেন।

কিন্তু ২০২৩ সালে লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে লেখা একটি নিবন্ধের জেরে সুনাক তাকে বরখাস্ত করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই কনজারভেটিভ নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।

রিফর্ম ইউকের সমাবেশে বক্তৃতায় ব্রাভারম্যান বলেন, ব্রিটেন এখন “ভেঙে পড়েছে” এবং অভিবাসন পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণের বাইরে”। তিনি দাবি করেন, দেশটি ‘নিয়ন্ত্রিত অবক্ষয়’-এর পথে এগোচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা চাইলে দুর্বলতা ও আত্মসমর্পণের পথে এগোতে পারি, অথবা আমাদের দেশকে ঠিক করে শক্তি ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারি।”

কনজারভেটিভ পার্টি তার দলত্যাগকে প্রত্যাশিত বলেই উল্লেখ করেছে। দলটির এক মুখপাত্র বলেন, “সুয়েলার দলত্যাগ প্রশ্ন ছিল কখন, হবে কি না তা নয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্রাভারম্যান ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুখপাত্র স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২২ সালে কনজারভেটিভ নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে ব্যালটে উঠার মতো সমর্থনও পাননি।

এই দলত্যাগ নিয়ে বিরোধী দলগুলোও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। লেবার পার্টির চেয়ার আনা টারলি বলেন, “নাইজেল ফ্যারাজ তার দলকে সেই ব্যর্থ টোরিদের দিয়ে ভরিয়ে তুলছেন, যারা ১৪ বছর ধরে ব্রিটেনকে বিশৃঙ্খলা ও স্থবিরতার মধ্যে আটকে রেখেছিল।” লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের উপনেতা ডেইজি কুপার বলেন, রিফর্ম ইউকে ‘নির্বাচিত স্মৃতিভ্রষ্টতায় ভোগা’ সাবেক মন্ত্রীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে।

বর্তমানে চারজন বর্তমান কনজারভেটিভ এমপি এবং সাধারণ নির্বাচনের পর প্রায় ২০ জন সাবেক টোরি এমপি রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন শক্তির সমীকরণ তৈরি করতে পারে এবং কনজারভেটিভ পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসলে রুয়ান্ডা হতে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত আনা হতে পারে

রিস্টার্ট গ্রান্ট সম্পর্কে ব্রিটেনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যা জানা দরকার

নিউজ ডেস্ক

রাজা চার্লসের রাজ্যাভিষেকে ১০ সারি পেছনে বসবেন প্রিন্স হ্যারি