8.6 C
London
May 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

করবিনপন্থীদের ভিড়ে শক্তিশালী হচ্ছে গ্রিন দল, লেবারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা

ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন এক মোড়ের ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে লেবার পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেনি ফর্মবি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রিন দলে যোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান লেবার পার্টি ক্রমশ কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকদের প্রভাবের অধীনে চলে গেছে।

২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত লেবার পার্টির শীর্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা ফর্মবি জানান, তিনি কয়েক মাস আগে গ্রিন দলের সদস্য হয়েছেন এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলটির পক্ষে সক্রিয় প্রচারণায় অংশ নেবেন।

ফর্মবি দীর্ঘদিন ধরে সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার এই দলত্যাগকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি বড় প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে করবিনপন্থী নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে জ্যাক পোলানস্কি নেতৃত্বাধীন গ্রিন দলে যোগ দিচ্ছেন।

ফর্মবি বলেন, “গ্রিন দল অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও কর বৃদ্ধি নিয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলছে। অন্যদিকে লেবার এখন কর্পোরেট স্বার্থের কাছে অনেকটাই বন্দী হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত গ্রিন দলের অবস্থান তাকে আকৃষ্ট করেছে।

তিনি জানান, ২০২২ সাল থেকে তিনি গ্রিন দলকে সমর্থন করে আসছিলেন এবং এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দলের হয়ে কাজ করতে আগ্রহী।

লেবার ছাড়ার পেছনে বর্তমান নেতা কিয়ার স্টারমার-এর নীতিগত অবস্থানের সমালোচনাও উল্লেখ করেন ফর্মবি। তার দাবি, স্টারমার নির্বাচনের সময় দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি দ্রুত ভঙ্গ করেছেন এবং নীতিগত দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নেওয়া কিছু সংসদ সদস্যের প্রতি দলের আচরণেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ফর্মবির সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রিন দলে যোগ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা জেমস মিডওয়ে এবং নর্থ অব টাইন অঞ্চলের সাবেক মেয়র জেমি ড্রিসকোল।

তাদের এই যোগদান গ্রিন দলের নীতিগত ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মাইকেল চেসাম, জো টড এবং ডেভিড প্রেসকট-এর মতো করবিনপন্থী নেতারাও গ্রিন দলে যুক্ত হয়েছেন।

গ্রিন দলের বর্তমান নেতৃত্ব অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো ইস্যুগুলোর ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। দলটি এখন আর কেবল পরিবেশ ইস্যুতে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর বামপন্থী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। দলটির জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সদস্যসংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে।
তবে লেবার পার্টির একটি সূত্র এই প্রবণতাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, গ্রিন দলের নীতিমালা বাস্তবসম্মত নয় এবং দেশ পরিচালনায় কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হবে।

এদিকে, জেনি ফর্মবি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি কোনো পুরনো আন্দোলনের পুনর্গঠন নয় বরং একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, যা ইতোমধ্যেই মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

সব মিলিয়ে, ব্রিটেনের রাজনীতিতে বামপন্থী শক্তির পুনর্বিন্যাসের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের গণপরিবহনে বাড়ছে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ

১৫ বছরে যুক্তরাজ্যে ১৭০ জনেরও বেশি মা তাদের ছেলের হাতে নিহত, রিপোর্ট প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনে জ্বালানির দামে সাশ্রয়ী অফার, দেখে নিন কোথায় মিলবে সস্তা পেট্রোল