TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

কল্যাণ সংস্কারে স্টারমারের ইউ-টার্নঃ প্রতিবন্ধী ভাতায় নতুন ও পুরনো প্রাপকদের মধ্যে বৈষম্যের শঙ্কা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বিতর্কিত কল্যাণ সংস্কার পরিকল্পনায় বড় ধরনের ছাড় দিয়েছেন, দলীয় বিদ্রোহ সামাল দিতে বাধ্য হয়ে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পার্সোনাল ইনডিপেনডেন্স পেমেন্ট (পিআইপি) পাওয়া কঠিন করার পরিকল্পনা থাকলেও, এখন তা কেবল নতুন আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত অংশ ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত থেকেও সরকার সরে এসেছে। বর্তমানে যারা এ ভাতা পান, তাদের অর্থ মুদ্রাস্ফীতির সাথে বাড়বে। পিআইপি মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে পর্যালোচনা কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।

স্টারমার বলেন, “আমরা সহকর্মীদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করেছি এবং কিছু সমন্বয় করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ দাঁড় করিয়েছি।” তিনি জানান, ২০২৯ সালে চালুর কথা থাকা £১ বিলিয়নের কর্মসংস্থান সহায়তা প্যাকেজ আগেই চালু করা হবে।

লেবার দলের প্রায় ১২০ জন এমপি সংস্কারের বিরোধিতা করলেও সরকারের ছাড় ঘোষণার পর কিছু এমপি সমর্থনে ফিরে গেছেন। ডেম মেগ হিলিয়ার জানান, তিনি এখন সরকারের পাশে থাকবেন। তবে ডেবি আব্রাহামসসহ অনেকে এখনো উদ্বিগ্ন যে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আগের ভুলগুলো আবার ঘটতে পারে।

বিরোধিতাকারীদের মতে, এই সংস্কার নতুন ও পুরনো প্রাপকদের মধ্যে দ্বিস্তর কাঠামো তৈরি করবে, যা ন্যায়সঙ্গত নয়। বিবিসিকে জানানো হয়েছে, কিছু এমপি ইতোমধ্যে আইনি পরামর্শ নিয়েছেন এ ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে।

স্টারমার সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে £৫ বিলিয়ন সাশ্রয় করা। কিন্তু ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজ ও রেজল্যুশন ফাউন্ডেশন হিসাব করেছে, এই ইউ-টার্নে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে £৩ বিলিয়ন। এতে বাজেট সামাল দিতে সরকারকে কর বাড়ানো, অন্য খাতে কাটছাঁট বা ঋণ নিতে হতে পারে।

প্রতিবন্ধী দাতব্য সংস্থা স্কোপ সরকারের ছাড়কে স্বাগত জানালেও বলেছে, পুরো প্রক্রিয়া পিআইপি মূল্যায়ন পুনঃপর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা উচিত। লেবার এমপি সাদিক আল-হাসান আপসকে স্বাগত জানালেও স্টোরব্রিজের এমপি ক্যাট একলেস এটিকে “দ্রুত ও যথেষ্ট নয়” বলে অভিহিত করেন।

সংস্কার নিয়ে কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনোক বলেন, “সরকার দিশেহারা”। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা টিম ফ্যারন ও রিফর্ম ইউকের রিচার্ড টাইস এই সংস্কারকে বিভ্রান্তিকর এবং অন্যায় বলে উল্লেখ করেছেন। গ্রিন পার্টিও দ্বিস্তর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সমালোচনা জানিয়েছে।

এই পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য স্পষ্ট, এবং সমালোচকদের মতে, এটি কেবল আর্থিক নয়, ন্যায়বিচারের প্রশ্নও।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে
২৮ জুন ২০২৫

আরো পড়ুন

সোশ্যাল হাউজিং 

নিউজ ডেস্ক

ইংল্যান্ডে পোলিশ ও বাংলা ভাষার আধিপত্যঃ দ্বিতীয় ভাষার মানচিত্র প্রকাশ

ফ্রান্স সীমান্তে যুক্তরাজ্যের নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের প্রতিবাদ সমাবেশ