19.2 C
London
October 1, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

‘কিম আমাকে পছন্দ করে, তাই উত্তর কোরিয়ায় নিউক্লিয়ার অস্ত্র থাকায় সমস্যা নেই’: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে দেশটির নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না বলা হলেও উত্তর কোরিয়ার হাতে ইতোমধ্যে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রশাসনের সমালোচনা করেন।

ট্রাম্প বলেন, আগের প্রেসিডেন্ট ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি থামানো সম্ভব হয়নি। তিনি কিম জং উনকে তার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কিম তাকে পছন্দ করেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু সক্ষমতা ‘বেশ বড়’। তিনি বলেন, কিম অনেক মানুষকে পছন্দ করেন না এবং তিনি নিজেকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন যাকে কিম পছন্দ করেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন কিমের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো থাকবে—কারণ কিম তাকে সম্মান করেন এবং পছন্দ করেন।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একদিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, এরই মধ্যে প্রায় ৮ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে মোতায়েন করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক করতে ট্রাম্পের আগ্রহের কথাও বহুবার প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিমের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে চীনে এপেক বৈঠকে ট্রাম্পের সফরের সময় কিমের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে তিনি তার সহযোগীদের ব্যক্তিগতভাবে চাপ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’-এর পরিসর কমিয়েছিলেন। ১১ দিনব্যাপী ওই মহড়াকে তিনি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘অনুপযুক্ত ও বৈরী’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল বলে মন্তব্য করেছিলেন।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মাধ্যমে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করা প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন। পরে দুজনের মধ্যে আরও দুটি বৈঠক হয়। তবে ২০১৯ সালে তাদের কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত থেমে যায়।

এরপরও ট্রাম্প কিমের কাছ থেকে পাওয়া কথিত ‘ভালোবাসার চিঠি’র কথা বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তার পাশাপাশি দেশটি চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও গভীর করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া গত কয়েক বছরে তার সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। দেশটি এ পর্যন্ত ছয়বার পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র বহনের সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উদ্যোগের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে একই ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে কোনো ধরনের সদিচ্ছার পদক্ষেপ হিসেবে দেখে, তাহলে তারা কাঙ্ক্ষিত জবাব পাবে না।

একই সময়ে কিম ইয়ো জং ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের যোগাযোগ চলছে—এমন দাবিও নাকচ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, কিমের কাছে ট্রাম্পের বিষয়ে ‘সুখকর ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অনুভূতি’ রয়েছে এবং দুই নেতার সম্পর্ক এখনও ভালো।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এমকে

আরো পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংকে অব্যাহতি দিলো চীন

ধুমপানের জন্য জাপানি আমলাকে জরিমানা

এক্সকে জরিমানা করায় ট্রাম্পের ক্ষোভঃ ‘ইউরোপ ভুল পথে হাঁটছে’