ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) এবং কিংস কলেজ লন্ডন একীভূত হয়ে একটি “সুপার বিশ্ববিদ্যালয়” গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান ক্রমবর্ধমান খরচের চাপ মোকাবিলা করতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
আজ দ্য লন্ডন ট্যাব-এর হাতে আসা একটি নথিতে বলা হয়েছে, এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি লন্ডনে বসবাসের উচ্চ ব্যয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউনিয়ন বিষয়টি নিয়ে সরব ছিল। তারা লন্ডনের শিক্ষার্থী আবাসন বাজারকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছে এবং জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।
নথিটি প্রদানকারী সূত্র জানিয়েছে, একীভূতকরণের প্রাথমিক ধাপ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, এবং ২০২৫ সাল থেকে স্নাতকদের ডিগ্রির শিরোনামে “London Universities” লেখা থাকবে।
বর্তমান শিক্ষার্থী ও যারা ইতোমধ্যে ভর্তি প্রস্তাব পেয়েছেন, তারা UCL এবং কিংস উভয়ের ক্যাম্পাসেই লেকচার ও সেমিনারে অংশ নিতে পারবেন। মে মাসে একটি পরীক্ষামূলক ধাপ শুরু হবে, যা সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হবে।
UCAS আবেদন ব্যবস্থায়ও এই পরিবর্তন প্রতিফলিত হবে। ২০২৫/২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে UCL বা কিংস কলেজের পরিবর্তে “London Universities” নামে আবেদন করবেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে, UCAS দ্য লন্ডন ট্যাবকে জানিয়েছে: “ উভয় প্রতিষ্ঠান আমাদের প্ল্যাটফর্মে একীভূত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে আবেদন প্রক্রিয়াকে একটি একক বিশ্ববিদ্যালয় সত্তার অধীনে আনা যায়।
এটি বর্তমান শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাবে প্রভাব ফেলবে না, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষাবর্ষের তারিখ ও কোর্স কাঠামোর সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
তবে এই একীভূতকরণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে বলে জানা যায়।
UCL-এর দ্বিতীয় বর্ষের রাজনীতি বিভাগের ছাত্র থিও ম্যাডান বলেন, “আমি ইউসিএল বেছে নিয়েছিলাম এর একাডেমিক খ্যাতি এবং স্বতন্ত্রতার জন্য। এখন মনে হচ্ছে আমাদের জোরপূর্বক কিংসের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে – এটা অনেকটা আর্সেনাল ও টটেনহ্যাম একীভূত হওয়ার মতো!”
তবে কিংস কলেজের প্রথম বর্ষের বিজনেস স্টুডেন্ট ম্যাথিউ স্লেটার আরও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন:
“UCL-এর কিছু চমৎকার সুবিধা রয়েছে, এবং যদি আমরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারি, তাহলে আমার এতে কোনো আপত্তি নেই।”
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ মোকাবিলা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, “ লন্ডন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর, এবং আমরা একত্রিত হয়ে আমাদের সম্পদ ভাগাভাগি করলে ভালো সুবিধা ও সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে,”
যেসব শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা অভিজ্ঞতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিগগিরই ই-মেইল পাঠানো হবে বলে জানা যায়।
সূত্রঃ দ্য লন্ডন ট্যাব
এম.কে
০২ এপ্রিল ২০২৫