যুক্তরাজ্য জুড়ে অবৈধ ও ক্ষতিকর স্কিন-লাইটেনিং কসমেটিকসের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে চার্টাড ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস ইন্সটিটিউট। সংস্থাটি বলছে, অনলাইনের পাশাপাশি এখন বুচার শপ, স্পেশালিটি ফুড স্টোর ও ছোট গ্রোসারি দোকানেও এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, যা পাবলিক হেলথের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক প্রোডাক্টে হাইড্রোকুইনোন, মারকারি ও শক্তিশালী কর্টিকোস্টেরয়েডের মতো নিষিদ্ধ কেমিক্যাল রয়েছে, যা স্কিন ড্যামেজ, ইনফেকশন, অর্গান ড্যামেজ এবং প্রেগন্যান্সি কমপ্লিকেশন ঘটাতে পারে। আইন অনুযায়ী এসব উপাদান কসমেটিকসে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অনেক ট্রেডার নিয়ম মানছে না।
সংস্থাটির সাবেক চেয়ার টেন্ডি লিন্ডসে বলেন, অবৈধ স্কিন-লাইটেনিং প্রোডাক্ট বিক্রি শুধু ডেঞ্জারাস নয়, সরাসরি ইলিগ্যাল। দোকান ছোট বা বড়—সব সেলারদের দায়িত্ব সেফ প্রোডাক্ট নিশ্চিত করা; অজ্ঞতা কোনো ডিফেন্স নয়।
একটি অনুষ্ঠানে বিবিসি মর্নিং লাইভে অংশ নেয়া আর্লেইন জানান, ছোটবেলা থেকে স্কিন কালার নিয়ে বৈষম্যের কারণে তিনি ঝুঁকি না বুঝেই নিষিদ্ধ ইনগ্রেডিয়েন্টযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করেছিলেন। অন্যদিকে এসেক্সের ড্যানিয়েল কিশোর বয়সে অ্যাকনির দাগ দূর করতে আনলেবেলড লোশন ব্যবহার করে পরে পার্মানেন্ট স্কিন ড্যামেজে ভোগেন। এ ধরনের উপাদানকে লোকাল গভমেন্ট এসোসিয়েশন অত্যন্ত ক্ষতিকর কেমিক্যালের সঙ্গে তুলনা করেছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, কালারিজম ও বিউটি স্ট্যান্ডার্ডের সামাজিক চাপ এই মার্কেট বাড়াচ্ছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের ইনসিকিউরিটি কাজে লাগিয়ে প্রফিট করছে। সম্প্রতি সাউথ লন্ডনের একটি বিউটি স্টোর বিপজ্জনক প্রোডাক্ট বিক্রির দায়ে বড় অঙ্কের ফাইন দিয়েছে এবং আরও কেস কোর্টে রয়েছে।
ভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বৈধ কসমেটিকসে অবশ্যই ইংরেজি ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট ও ইউকে-ভিত্তিক ম্যানুফ্যাকচারার বা ইমপোর্টারের ঠিকানা থাকতে হবে। সন্দেহজনক বা আনলেবেলড প্রোডাক্ট ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে এসব ক্রিম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ব্যবহারের আগে ডাক্তার বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীন প্রমোশন বাড়ছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তাই আনভেরিফায়েড সেলার থেকে প্রোডাক্ট না কেনা এবং কোনো অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশন হলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

