23 C
London
August 11, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

গলায় রামদা ধরে এমপির বাড়িসহ সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগ নিয়ে তার গলায় রামদা ধরে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে তার তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে দিরাই আদালতে মামলা করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) দিরাইয়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমের আদালতে মামলাটি করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁওয়ের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁওয়ের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম এবং মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগ নিয়ে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে আসামিরা তার গলায় রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় তার অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে সংসদ সদস্যের এক সমর্থক ওয়াকিব হাসান ঘটনাটি দেখতে পেলে তাকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে সংসদ সদস্যের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়।

বাদী পারভিন আক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্ট্রোক করার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। সেই সুযোগে তার গলায় দা ধরে বসতবাড়িটি লিখে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। পরে তার স্বামী তাকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে ক্ষমতাপত্র দিলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। তিনি বলেন, গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য নয় এবং এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে তারা আইনগতভাবেই এর মোকাবিলা করবেন।

দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু মামলার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য। তার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে সৎ ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একজন বর্তমান সংসদ সদস্যের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক সম্পত্তি হস্তান্তরের এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার, ৪০ হাজার পাউন্ড জরিমানা

এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা

নিউজ ডেস্ক

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, ২ ছাত্রলীগকর্মী গ্রেপ্তার