5.1 C
London
March 23, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

গাজা গণহত্যা মামলায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হেগে নতুন মোড়

নেদারল্যান্ডস ও আইসল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দায়ের করা গাজা-সংক্রান্ত গণহত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার শুরু করা মামলায় যুক্ত হওয়া দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান তালিকায় যোগ দিল।

 

হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-এ চলমান এই মামলায় উভয় দেশই আদালতের আইনের ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ঘোষণাপত্র দাখিল করেছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে মামলায় সংশ্লিষ্ট চুক্তিভুক্ত দেশগুলো তাদের মতামত উপস্থাপন করতে পারে।

নেদারল্যান্ডস তাদের ঘোষণায় জোর দিয়ে বলেছে, বেসামরিক জনগণের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে বাধা সৃষ্টি—এই ধরনের কর্মকাণ্ড গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। একই সঙ্গে শিশুদের ক্ষতি ও সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গাজা পরিস্থিতি ঘিরে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যে মামলা শুরু করে, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টিরও বেশি দেশ এই মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে হস্তক্ষেপের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে।

তবে এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অবস্থান একমুখী নয়। যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি এবং ফিজিসহ কয়েকটি দেশ মামলার বিরোধিতা করেছে, যা বৈশ্বিক কূটনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে।

এদিকে আদালত ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে ইসরায়েলকে গণহত্যা সনদের সম্ভাব্য লঙ্ঘন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশের এই হস্তক্ষেপ গাজার সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক চাপকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ মিডিল ইস্ট আই

এম.কে

আরো পড়ুন

মুসলিম শিশুকে হত্যার হুমকি, মার্কিন স্কুল শিক্ষক গ্রেফতার

টিভি প্রযোজক বার্নেটকে যুক্তরাজ্যের বিশেষ দূত বানালেন ট্রাম্প

৫০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ব্রিটেনঃ ট্রাম্প যুগে বৈশ্বিক প্রভাব হারাল যুক্তরাজ্য