17.7 C
London
October 3, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

গুলশানে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারে এনবিআরের অভিযানঃ জব্দ ২৩০ পিস অবৈধ লিকার

ঢাকার গুলশান ও তেজগাঁওয়ের চারটি বার ও রেস্টুরেন্টে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে কাগজপত্রবিহীন ২৩০ পিস লিকার, ৬০৮ লিটার মদ, অননুমোদিত লিকারসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।

তিনি জানান, লিকারজাতীয় পণ্য মজুত, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং অননুমোদিতভাবে এসব পণ্য ব্যবসা বা সরবরাহের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ জন্য সিআইআইডির নেতৃত্বে চারটি দল গঠন করা হয়। দলগুলোর সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা উত্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অভিযানের একটি দল গুলশানের ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালায়। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ পিস লিকার পাওয়া যায়। তবে এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেখানো সম্ভব হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পণ্যগুলো একটি কাভার্ডভ্যানে করে প্রতিষ্ঠানটির বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো আটক করা হয়।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে ‘জিনশেং’ নামে একটি পণ্যও পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, এটি শর্তযুক্ত আমদানি পণ্য এবং ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের পণ্য আমদানি করা যায় না। ওই পণ্যের ক্ষেত্রেও কোনো প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখানো হয়নি বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় এক কেজি জাফরানও উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, জাফরান উচ্চ শুল্কযুক্ত একটি পণ্য। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ও বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

অন্যদিকে গুলশানের মার্গারিটা লাউঞ্জেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে মোট ৬০৮ লিটার অনুমোদিত মদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য ছিল। অভিযানের সময় পুরো মদই জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালেও অভিযান চালানো হয়। সিআইআইডির কর্মকর্তারা জানান, হোটেলটির বারটি হোটেলের নামে লাইসেন্স করা নয়। বরং এটি ‘হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযানে তথ্য পাওয়া যায়।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তেজগাঁওয়ের আরএডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অননুমোদিত লিকার জব্দ করা হয়েছে।

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে অভিযানটি কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আক্রোশের কারণে পরিচালিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহমেদ বলেন, এনবিআরের অভিযানে কোনো ব্যক্তি বা সংঘকে মুখ্য বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এনবিআরের কাছে সংরক্ষিত নথি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, সংঘ বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুখ্য বিষয় নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এনবিআর জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সমন্বিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এখন অভিযানে জব্দ করা পণ্য, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আমদানি-বিক্রয়সংক্রান্ত নথি এবং লাইসেন্স ও অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

এমকে

আরো পড়ুন

সুইস ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশিরা

দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে নৌকা কিনতে চায় আলজেরিয়া, বিনিয়োগেও আগ্রহী