TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

‘চুক্তি করো, নইলে তেল-অর্থ শূন্য’’—কিউবাকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

কিউবাকে ‘চুক্তি করতে’ সরাসরি আহ্বান জানিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে না আসে, তবে ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটিতে তেল ও অর্থের প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

 

৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই কিউবাকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত বলে ধারণা করা হয়, যা দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার একটি বড় ভরসা ছিল।

ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে। সর্বশেষ শুক্রবার পঞ্চম একটি ট্যাংকার আটক করা হয়, যা কিউবাগামী ভেনেজুয়েলার নিষিদ্ধ তেল বহন করছিল বলে দাবি করে ওয়াশিংটন। এই পদক্ষেপের ফলে কিউবায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল এবং এর বিনিময়ে দেশটি ভেনেজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসকের জন্য নিরাপত্তা সেবা দিয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন, এখন থেকে কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না এবং ‘দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ দেশটিকে চুক্তি করতে হবে।

তবে ট্রাম্প কী ধরনের চুক্তির কথা বলছেন বা কিউবা চুক্তিতে না এলে কী পরিণতির মুখে পড়তে পারে—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

এদিকে কিউবা এই হুমকিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, কিউবার যে কোনো দেশের কাছ থেকে জ্বালানি আমদানির পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, কিউবা ব্ল্যাকমেইল কিংবা সামরিক চাপের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যারা মানবজীবনকেও ব্যবসায় পরিণত করে, তাদের কিউবার বিরুদ্ধে নৈতিক ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। কিউবার জনগণ নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা অভিযানে নিহত কিউবান নাগরিকদের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিউবানদের বড় অংশ ওই অভিযানে নিহত হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলাকে আর কিউবার নিরাপত্তা সেবার প্রয়োজন নেই। তবে কিউবা সরকার জানায়, তারা কোনো দেশকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে কখনো অর্থ বা বস্তুগত সুবিধা নেয়নি।

কিউবা বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কৌশল স্পষ্ট না হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, হাভানার শাসকগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’। একই সঙ্গে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্যও শেয়ার করেছেন, যেখানে রুবিওকে ভবিষ্যতের কিউবার নেতা হিসেবে কল্পনা করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কিউবাকে ঘিরে এই চাপ ট্রাম্পের পুনরুজ্জীবিত ‘মনরো ডকট্রিন’-এরই অংশ, যাকে তিনি ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক বৈরিতার মধ্যেই রয়েছে। বারাক ওবামার আমলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে কিউবাকে আবার সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

চুরির অভিযোগ, পদত্যাগ করলেন নিউজিল্যান্ডের এমপি

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি মওকুফ পাচ্ছেন যারা

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঠেকাতে যুক্তরাজ্যকে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের