ইরানে একাধিক স্থাপনায় বিমান হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। দেশটির কারাজ শহরে নির্মাণাধীন বি-১ সেতুতে হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু এই সেতুটি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
১৩৬ মিটার উচ্চতার এই সেতুটি তেহরানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে “প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার” হুমকি দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে আরও হামলা আসতে পারে। তিনি ইরানকে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান, অন্যথায় দেশটির আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে তেহরানে শতবর্ষী একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছবিতে “পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান” নামে পরিচিত ভবনটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়।
এর আগে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, চলমান সংঘাত প্রায় শেষের দিকে, তবে ইরান তার শর্ত না মানলে “অত্যন্ত কঠোর” সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে প্রায় ৪০টি দেশের অংশগ্রহণে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার অভিযোগ করেন, ইরান একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখেছে।
বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশ অনুপস্থিত ছিল, যা পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

