যুক্তরাজ্যে বিদেশি নাগরিকদের ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত সতর্কবার্তা (কন্ডিশনাল কশন) ব্যবহারের পরিধি বাড়িয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নীতিমালায় এই ব্যবস্থা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অভিবাসন ও আশ্রয় আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্রি মুভমেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘ফরেন ন্যাশনাল অফেন্ডার (এফএনও) কন্ডিশনাল কশনস’ শিরোনামে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত সতর্কবার্তা প্রয়োগের বিষয়ে এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম নীতিমালা বলে ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শর্তযুক্ত সতর্কবার্তা হলো, নির্দিষ্ট কিছু ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে মামলা পরিচালনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা একটি ব্যবস্থা। তবে এর সঙ্গে কিছু শর্ত যুক্ত থাকতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মেনে চলতে হয়।
এ ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি হলো যুক্তরাজ্যের ২০০৩ সালের ফৌজদারি বিচার আইনের ২২ ও ২৩ নম্বর ধারা। নতুন নির্দেশিকায় বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রয়োগের বিস্তৃত পরিধি তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় যোগ্য বিদেশি অপরাধী শর্তযুক্ত সতর্কবার্তা গ্রহণ করলে তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়তে হবে। সাধারণত এই সময়সীমা ১৬ সপ্তাহ; বিশেষ পরিস্থিতিতে তা সর্বোচ্চ ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি, তাকে অন্তত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে পুনরায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিশেষ ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা ১০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
এই ব্যবস্থা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিবাসন পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন এবং তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা আছে কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে মানবপাচারের সংশ্লিষ্টতার যুক্তিসংগত সন্দেহ রয়েছে, আশ্রয় বা মানবাধিকারসংক্রান্ত দাবি বিচারাধীন রয়েছে কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এই সতর্কবার্তা দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
শর্তযুক্ত সতর্কবার্তা গ্রহণের পর নির্ধারিত শর্ত না মানলে, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া যুক্তরাজ্য ত্যাগে ব্যর্থ হলে কিংবা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ফিরে এলে মূল অপরাধের জন্য আবারও ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিবাসন অনুমতিও বাতিল করা হতে পারে।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এমকে

