18.5 C
London
September 25, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের জন্য বৈশ্বিক জোট’-এর উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে এই অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়গুলো জানানো হয়।

বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় শামা ওবায়েদ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব মালিকানা এবং স্পষ্ট জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও জনসংখ্যার গঠনগত পরিবর্তন প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অবিলম্বে বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর আইনি সুরক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সরকারি প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের রাজনৈতিক সমাধান হিসেবে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বানও বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বক্তব্যে পুনরাবৃত্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর গৃহীত হয়। প্রস্তাবটি গাজা সংঘাত অবসানের একটি সমন্বিত পরিকল্পনাকে অনুমোদন করে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি, পুনর্গঠন ও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করে। প্রস্তাবটি ১৩-০ ভোটে গৃহীত হয়; দুই সদস্য ভোটদানে বিরত ছিল।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক আলোচনাতেও গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ উঠে এসেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা গাজায় মানবিক সহায়তা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের আওতায় গাজায় মানবিক সহায়তা ও জনসেবা সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং গাজার পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের বিষয়েও কাজ চলছে।

বাংলাদেশের বক্তব্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান, ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের দাবিকে আবারও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

এমকে

আরো পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শেষ

ছাত্র-জনতা হত্যার প্রতিবাদে যুক্ত হচ্ছেন নানা শ্রেণী পেশার লোক

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শেখ হাসিনা