জাপানে বিদেশিদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির আবেদন ফি একলাফে ২০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। আগে যেখানে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ফি ছিল ১০ হাজার ইয়েন, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ইয়েন, যা প্রায় ১ হাজার ২৭০ মার্কিন ডলারের সমান। জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সিও নতুন ফি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শুধু আবেদন ফি নয়, স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে বিদেশিদের জন্য আয়, পেনশন এবং জাপানি ভাষা-সংক্রান্ত নতুন শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন জাপানের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এসেছে।
ফি বাড়ানোর আগে পুরোনো হারে আবেদন জমা দিতে জাপানের বিভিন্ন অভিবাসন দপ্তরের সামনে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। রাজধানী টোকিওর প্রধান অভিবাসন ব্যুরোর সামনে অপেক্ষার সময় সাত ঘণ্টারও বেশি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত গ্রহণ করা স্থায়ী বসবাসের আবেদন নতুন ফি কার্যকর হওয়ার পর অনুমোদিত হলেও পুরোনো ১০ হাজার ইয়েন ফিই প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে ১ অক্টোবর বা তার পরের আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন ফি কার্যকর হবে।
নতুন নিয়মে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা কিছু আবেদনকারীর জন্য ফি কমানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির ফি কমিয়ে ২০ হাজার ইয়েন করা যেতে পারে।
স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের আয় সম্পর্কেও নতুন মানদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের জাপানের গড় পরিবারের আয়ের সমান বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাপানে পরিবারের গড় বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন।
এদিকে স্থায়ী বসবাসের পাশাপাশি অন্যান্য আবাসন-সংক্রান্ত ফিও পরিবর্তন করা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে অবস্থানের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ভিসার ধরন পরিবর্তন বা থাকার মেয়াদ বাড়ানোর ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় তিন মাস বা তার কম মেয়াদের জন্য ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে শুরু হয়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের ক্ষেত্রে ৭৫ হাজার ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে। জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, নতুন ফি কাঠামো ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজারের বেশি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি এবং দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
একদিকে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ায় জাপান শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে দেশটিতে আলোচনা ও উদ্বেগও বাড়ছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসন ব্যবস্থাপনা তার সরকারের অন্যতম আলোচিত নীতিগত বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থায়ী বসবাসের ফি বাড়ানোর আগে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জাপানের জনগণের একটি অংশ উদ্বেগ বা অন্যায্যতার অনুভূতি পেতে পারেন। তার সরকার বিদেশিদের বিষয়ে নীতিমালার সুশৃঙ্খল বাস্তবায়ন এবং জাপানি নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দা—উভয়ের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান।
তবে জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন ফি কাঠামোর উদ্দেশ্যের মধ্যে অভিবাসন ও আবাসন ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক ব্যয় বহনে বিদেশি বাসিন্দাদের কাছ থেকে উপযুক্ত অংশ নেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবেদন যাচাইয়ের খরচ, বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান ব্যবস্থাপনার ব্যয়, অন্যান্য দেশের অনুরূপ ফি এবং ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ফলে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে জাপানে স্থায়ী বসবাসের পথ আগের তুলনায় ব্যয়বহুল হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আয়, পেনশন ও ভাষাগত শর্ত পূরণের বিষয়টিও বিদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ রয়টার্স \ জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি
এমকে

