ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করায় চুক্তিটি বাস্তবায়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়।
একটি সাক্ষাৎকারে লাটনিক বলেন, চুক্তির কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল এবং কারিগরি ও নীতিগত প্রস্তুতি তার দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের রাজনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন ছিল, যা শেষ পর্যন্ত হয়নি।
লাটনিকের দাবি, তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং এখন মোদির ট্রাম্পকে ফোন করে বিষয়টি চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু ভারতীয় পক্ষ এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি এবং সেই ফোন কল আর করা হয়নি। এর ফলেই আলোচনার প্রক্রিয়া থেমে যায়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে ভারত আবার আলোচনায় ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও ততদিনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করে ফেলেছিল। এর ফলে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্রে শর্তগুলো আগের তুলনায় কঠোর হয়ে যায়।
লাটনিক বলেন, ভারতীয় প্রতিনিধিরা তখন দাবি করেন যে তারা আগের শর্তগুলোতে রাজি ছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল, সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতাও বদলে গেছে এবং আগের শর্ত আর প্রযোজ্য নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য আলোচনার কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লাটনিক বলেন, এটি ধাপে ধাপে এগোনোর মতো একটি প্রক্রিয়া। যে দেশ আগে চুক্তিতে আসে, সে তুলনামূলকভাবে ভালো শর্ত পায়, আর পরবর্তী দেশগুলোর জন্য শর্ত ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তির পর ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হয়। এসব চুক্তির পর ভারতের জন্য আগের সুবিধাজনক অবস্থান আর বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
লাটনিক দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে টানা তিনটি শুক্রবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না আসায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়। তার কথায়, “ট্রেন তখন স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে—পরে প্রস্তুত হলেও পরিস্থিতি আর আগের মতো ছিল না।”
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এম.কে

