ডাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এইবার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষিতে বিশ্বনেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফোরামের দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যিনি ট্রাম্পের নাম না নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “এটি এমন এক বিশ্ব যেখানে আন্তর্জাতিক আইন পা তলায় নীচু করা হচ্ছে এবং একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ আইন হলো শক্তিশালীদের আইন।”
ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের সঙ্গে মিলে ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের নীতিকে বিরোধপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার বলেন, ইউরোপকে সচেতন না হলে তারা ট্রাম্পের “দাস” হয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের জেগে থাকতে হবে, নিজেদের পুনঃসজ্জিত করতে হবে, বাজার একীকরণ করতে হবে এবং নতুন জোট খুঁজতে হবে।”
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম বলেন, ইউরোপ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “ট্রাম্প হলো টি-রেক্স—আপনি তার সঙ্গে জোট বাঁধবেন, না হলে সে আপনাকে খেয়ে ফেলবে। শক্তিশালী হোন, দুর্বল নয়।”
ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব অ-আলোচ্য এবং আর্কটিক নিরাপত্তা বিষয়ে ইউরোপ নতুন প্যাকেজ গ্রহণ করছে। এতে গ্রিনল্যান্ডে বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপকে “ভুল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্বনেতারা ডাভোসের মঞ্চে স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং শক্তিশালী একতা প্রদর্শন ছাড়া কোনো দেশকে এককভাবে প্রভাবিত হতে দেওয়া যাবে না। আগামীকাল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের মাধ্যমে এই আলোচনার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

