18.5 C
London
September 25, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় ব্রিটেনে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার কথা বিবেচনা করছেন—এমন খবরের পর ব্রিটেনে সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরকে তারা ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া খবর হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিফর্ম ইউকে-এর অর্থনৈতিক মুখপাত্র রবার্ট জেনরিক মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে চিঠি দিয়ে যুক্তরাজ্যকে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেনরিক তার চিঠিতে সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য—উভয় দেশের জন্যই ‘বড় ভুল’ হবে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ হলে ব্রিটেনে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে।

জিবি নিউজের প্রতিবেদনে জেনরিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, যুক্তরাজ্য বর্তমানে নিজেদের ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় অর্ধেক আমদানি করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এ কারণে মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তন হলে ব্রিটেনের ডিজেল সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জেনরিক সতর্ক করেছেন।

রবার্ট জেনরিক ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ তেল পরিশোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ার জন্য কয়েক দশকের জ্বালানি নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর গ্র্যাঞ্জমাউথ ও লিন্ডসে এলাকার দুটি তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে।

জেনরিকের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করলে ব্রিটেনের অর্থনীতিতে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এর প্রভাব কর্মজীবী মানুষ, অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার অর্থায়নের ওপরও পড়তে পারে।

চিঠিতে জেনরিক আরও বলেন, যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্রদের একটি হওয়ায় দীর্ঘদিনের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ বিষয়টি বিবেচনা করে ব্রিটেনকে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া উচিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সংগঠনও সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, রপ্তানি বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি উৎপাদন কমতে পারে, সরবরাহ সংকুচিত হতে পারে এবং মার্কিন পরিবার, কৃষক ও ট্রাকচালকদের খরচ বেড়ে যেতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অনিক্স ক্যাপিটালের প্রধান গ্রেগ নিউম্যান সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন, কৃষি ও নির্মাণ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এর প্রভাব খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যেও পড়তে পারে।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবর অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে তেল ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

করবিনপন্থীদের ভিড়ে শক্তিশালী হচ্ছে গ্রিন দল, লেবারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা

যুক্তরাজ্যে আত্মহত্যা কমাতে প্যারাসিটামল বিক্রি সীমিত করার পরিকল্পনা

ব্রিটেনে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ায় ৬০ মাইল গতির পরামর্শ