18.9 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

তবে কি জট খুলতে যাচ্ছে রহস্যঘন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের এক যুগের বেশি সময় পর তদন্তে নতুন করে রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একজন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ যোগাযোগের সূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা করছে না; মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ক্লু সামনে এসেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা অনেক সময় অন্য ঘটনার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেয়ে থাকেন। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও তেমন একটি সূত্র পাওয়া গেছে। মামলাসংশ্লিষ্ট কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার সময় ওই ‘কানেকশন’ শনাক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে এখনই ওই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আরও তদন্তের পর তথ্যটি প্রামাণিক পর্যায়ে পৌঁছালে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তা শেয়ার করা হতে পারে।

এর আগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।

জোহা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হত্যাকাণ্ডের আগেই র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের কাছে তথ্য ছিল। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল—‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’ তবে কী ঘটতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তাকে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। পরদিন সকালে ওই কর্মকর্তা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন।

এই বক্তব্যের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করছে না। পিবিআই বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে। তবে ট্রাইব্যুনালের অন্য একটি তদন্তে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতে এই মামলার তদন্তে সহায়ক হতে পারে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী সাংবাদিক মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা এরই মধ্যে ১২৯ বার পিছিয়েছে। সর্বশেষ ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রথমদিকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবের কাছে ছিল। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মামলাটির তদন্ত কাঠামোয় পরিবর্তন আসে।

২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করে আগের আদেশ সংশোধনের জন্য। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে গঠিত হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স। পরবর্তী দেড় বছরে আদালত থেকে তিন দফা সময় নেয় টাস্কফোর্স। পরে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদনও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। গত ২৬ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ওই অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে তুলে ধরেন।

তবে দীর্ঘ তদন্তের পরও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি। এর মধ্যেই এবার সিডিআর বিশ্লেষণ থেকে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ‘কানেকশন’ পাওয়ার দাবি সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাগর-রুনি হত্যা মামলা।

তবে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি এখনো তদন্তাধীন একটি সূত্র মাত্র। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য তিনি দেননি। তদন্তে পাওয়া যোগাযোগের সূত্র শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্রঃ এনডিটিভি প্রতিবেদন

এম.কে

আরো পড়ুন

শান্ত সাহসে পরিস্থিতি জয় করলেন লেঃ কর্নেল খলিল

ধর্ষণের প্রতিবাদে অন্ধকারে নিমজ্জিত ফেসবুক

অনলাইন ডেস্ক

ভাড়া বাসার আলিশান অফিসে বসেন সিলেটের এই পুলিশ কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক