TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

তিন বাহিনী নিয়ে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি

অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি অপসারণসহ বিভিন্ন মহলের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গত দেড় বছরে অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কখনো বঙ্গভবনে মব সৃষ্টি করে মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা, কখনোবা আড়ালে গভীর চক্রান্ত।

সবই ছিল আমাকে উপড়ে ফেলার ষড়যন্ত্র।’

রাষ্ট্রপতি জানান, নানা সংকটের মধ্যে একা তার পক্ষে মনোবল অটুট রাখা কঠিন হতো, যদি না বিভিন্ন মহল থেকে আশ্বাস ও অভয়বাণী পেতেন। বিশেষ করে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তিনি সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, বাহিনীপ্রধানরা তাকে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান; রাষ্ট্রপতির পরাজয় মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীরই পরাজয়, যা তারা যেকোনো মূল্যে রোধ করবেন।

বিভিন্ন সময় সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বঙ্গভবনে এসে তাকে মনোবল জুগিয়েছেন বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর থেকেই একবার তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন; সে সময়ও তিন বাহিনীপ্রধান তার পক্ষে অবস্থান নেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানকে জানিয়ে দেন, কোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড তারা হতে দেবেন না। বঙ্গভবনে মব পরিস্থিতি তৈরি হলেও সশস্ত্র বাহিনী একই অবস্থান নেয় বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকেও তাকে স্পষ্ট সমর্থনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

তার ভাষায়, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান এবং কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে নন।

রাষ্ট্রপতির মতে, পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটি অবস্থানে একত্রিত হয়েছিল। বিপরীতে আরেকটি গোষ্ঠী ভিন্ন পথে অগ্রসর হলেও শেষ পর্যন্ত তারা সফল হতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রপতিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে অপসারণের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

তার দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের চাপ থেকেই এসব তৎপরতার সূচনা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলে। একপর্যায়ে এ ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন তৈরি হয় এবং তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলে।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, রাজনৈতিক পর্যায়ে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে খোদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর থেকেই তাকে অপসারণের নতুন চেষ্টা করা হয়। এমনকি অসাংবিধানিকভাবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির স্থানে বসানোর চক্রান্তও হয়।

তবে প্রধান বিচারপতির অনড় অবস্থান, সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় সমর্থন এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট হিসেবে বিএনপির অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়। একই সময়ে বঙ্গভবন ঘিরে বিক্ষোভ ও মব পরিস্থিতিও তৈরি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেনাবাহিনী।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

এম.কে

আরো পড়ুন

বেক্সিমকো-এস আলমসহ ১০ শিল্পগ্রুপে বসছে রিসিভার

ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশনের কার্যক্রম শুরু, চুক্তি সই

পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক