TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে যুক্তরাজ্যে কাদের বাধ্যতামূলক সেনাসেবায় যেতে হতে পারে

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ, গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের টানাপোড়েন এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসন—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

 

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বিগ্ন করেছে। ন্যাটোর অংশ হওয়া সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সামরিক হুমকির ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে একাধিক ইউরোপীয় দেশ। এ প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক চেয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চললেও শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ইউরোপজুড়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে একের পর এক দেশ।

এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স নতুন জাতীয় সামরিক সেবা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ইউরোপ ‘চরম ঝুঁকির’ মুখে পড়েছে। যদিও ফ্রান্সে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা পুনর্বহাল করা হচ্ছে না, তবে তরুণদের জন্য স্বেচ্ছামূলক সামরিক সেবার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যেও যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। গত বছর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্ব এখন ‘যুদ্ধ-পরবর্তী নয়, যুদ্ধ-পূর্ব’ বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার প্যাট্রিক স্যান্ডার্সও বাহিনীর আকার বাড়ানো ও জনসাধারণের প্রস্তুতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

যদি যুক্তরাজ্য কোনো বৃহৎ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং সেনাসংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তবে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। ইতিহাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে ১৯৩৯ সালে প্রথম দফায় ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী অবিবাহিত পুরুষদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনা হয়েছিল।

যুদ্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সেই বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৮ থেকে ৪১ বছর করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও সম্প্রসারিত হয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫১ বছর পর্যন্ত পৌঁছায়। এমনকি ৫২ থেকে ৬০ বছর বয়সীরাও কোনো না কোনোভাবে সামরিক দায়িত্বে যুক্ত হতে বাধ্য হন।

সেই সময় কেবল চিকিৎসাগতভাবে অযোগ্য ব্যক্তি এবং কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, চিকিৎসা ও প্রকৌশলের মতো জরুরি খাতে নিয়োজিত কর্মীরাই অব্যাহতি পেয়েছিলেন। যুদ্ধের শেষভাগে নারীদেরও সেনাসেবা ও সহায়ক ভূমিকায় যুক্ত করা হয়।

বর্তমান জনমত অবশ্য সেনাসেবার বিষয়ে বিভক্ত। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের নিচে উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ নতুন কোনো বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনিচ্ছুক। তবে একই জরিপে অধিকাংশ উত্তরদাতা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক সেনাসেবার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে সেনাসেবা প্রত্যাখ্যান করলে কী পরিণতি হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিবেকগত কারণে অস্ত্র ধরতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং অনেককে বিকল্পভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয়।

বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এখনো কেবল সম্ভাবনার মধ্যেই থাকলেও—ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলছে, যুদ্ধ বাস্তবে রূপ নিলে যুক্তরাজ্যকে কঠিন সিদ্ধান্তের দিকেই যেতে হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের আবাসন সংকট বিকট আকার ধারন করেছে

মানবাধিকার বিধি লঙ্ঘন করেছে প্রীতি প্যাটেলের ডিটেনশন পলিসি: ইমিগ্রেশন কোর্ট

লন্ড‌নের মেয়র প‌দে হ্যাটট্রিক জ‌য়ের প‌থে সা‌দিক খান