কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক দলত্যাগের গোপন ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে শ্যাডো জাস্টিস সেক্রেটারি রবার্ট জেনরিককে বরখাস্ত করেছেন। একই সঙ্গে তার হুইপ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় সদস্যপদও স্থগিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কেমি ব্যাডেনক জানান, তার কাছে “স্পষ্ট ও অখণ্ডনীয় প্রমাণ” এসেছে যে রবার্ট জেনরিক গোপনে এমনভাবে দলত্যাগের পরিকল্পনা করছিলেন, যা শ্যাডো ক্যাবিনেটের সহকর্মী এবং পুরো কনজারভেটিভ পার্টির জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিকর হতো।
ব্যাডেনক বলেন, ব্রিটিশ জনগণ রাজনৈতিক নাটক ও অন্তর্দলীয় ষড়যন্ত্রে ক্লান্ত। তার ভাষায়, আগের সরকারে এই ধরনের আচরণ ব্যাপকভাবে দেখা গেছে এবং বর্তমান সরকারেও তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অতীতের সেই ভুল তিনি আর পুনরাবৃত্তি করতে চান না।
টাইমস পত্রিকার রাজনৈতিক সম্পাদক স্টিভেন সুইনফোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফ্যারাজের সঙ্গে রবার্ট জেনরিকের যোগাযোগ কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস ধরেই চলছিল। গত ডিসেম্বর মাসে পার্লামেন্টে তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে কনজারভেটিভ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, কেমি ব্যাডেনকের টিম রবার্ট জেনরিকের একটি প্রায় চূড়ান্ত পদত্যাগ ভাষণের খসড়া হাতে পায়, যা কোথাও পড়ে ছিল। একই সময়ে জেনরিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা অনুষ্ঠান বাতিল করেন। এতে দলীয় নেতৃত্বের ধারণা আরও জোরালো হয় যে তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দলত্যাগের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, এই ঘটনার আগে মঙ্গলবার শ্যাডো ক্যাবিনেট বৈঠকে জেনরিক স্বাভাবিক আচরণ করেন এবং কোনো ইঙ্গিত দেননি।
এমনকি গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শ্যাডো ক্যাবিনেটের একটি কৌশলগত ‘অ্যাওয়ে ডে’-তেও তিনি অংশ নিয়ে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত নোট নেন, যা ব্যাডেনকের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, রিফর্ম ইউকে কিংবা রবার্ট জেনরিক—কেউই এই আকস্মিক বরখাস্তের বিষয়ে প্রস্তুত ছিলেন না। কেমি ব্যাডেনক কার্যত সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন।
এদিকে নাইজেল ফ্যারাজ মন্তব্য করেছেন, অভিবাসন নীতিতে ব্যর্থতার জন্য রবার্ট জেনরিক কনজারভেটিভ দলেরই অংশ। তবে রিফর্ম ইউকের দৃষ্টিতে জেনরিকের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক ছিল—তিনি ঋষি সুনাকের সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কনজারভেটিভ পার্টিতে নেতৃত্বের কঠোরতা ও শৃঙ্খলার বার্তা স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

