5.4 C
London
February 18, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

দুর্নীতিগ্রস্ত আসামিকে আশ্রয়ঃ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঠাচ্ছে মেক্সিকো

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক এক গভর্নরের স্ত্রীকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে মেক্সিকো ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম ঘোষণা দিয়েছেন, তার সরকার এ বিষয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পাঠাবে।

কারাবন্দি সাবেক ভেরাক্রুজ গভর্নর জেভিয়ার দার্টের সাবেক স্ত্রী কারিমে মাসিয়াস, প্রায় ৪৮ লাখ পাউন্ড সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মেক্সিকোয় প্রত্যর্পণের মুখোমুখি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজ্যের সমাজকল্যাণ তহবিল থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম প্রশ্ন তুলেছেন, জালিয়াতি ও দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে আশ্রয় পান। তিনি জানান, মেক্সিকোর অবস্থান স্পষ্ট করে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

মাসিয়াস ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভেরাক্রুজের ফার্স্ট লেডি ছিলেন। তার স্বামী দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধের অভিযোগে পদত্যাগের পর দেশত্যাগ করেন এবং পরে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি অর্থপাচার ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে কারাভোগ করছেন। প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, তিনি শিশু ও প্রবীণদের সহায়তার জন্য নির্ধারিত তহবিল থেকেও অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন।

মাসিয়াসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ, তিনি সমাজকল্যাণ দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি পাউন্ডের চুক্তি বরাদ্দ দেন। তদন্তকারীরা পরে একটি গুদামঘর থেকে দম্পতির মালিকানাধীন বিভিন্ন সামগ্রী ও তার ব্যক্তিগত নোটবই উদ্ধার করেন। এক নোটবইয়ের পাতায় তিনি বারবার লিখেছিলেন—“আমি প্রাচুর্যের যোগ্য”।

২০১৮ সালে এক বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে সাবেক গভর্নর মিউগেল এঞ্জেল ইউনেস দাবি করেন, নজরদারির মাধ্যমে জানা গেছে মাসিয়াস লন্ডনের অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মাসে বিপুল অর্থ ব্যয় করতেন এবং উচ্চবিত্ত জীবনধারা বজায় রাখতেন।

২০১৯ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করলেও জামিনে মুক্তি দেন এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২২ সালে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার প্রত্যর্পণের পক্ষে রায় দেয়। তবে তার আইনজীবীরা আপিল করে দাবি করেন, মামলার আইনগত সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং বিষয়টি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।

এদিকে মাসিয়াস যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং দাবি করেন তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গত বছর তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ব্যক্তিগত মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক সূচকে মেক্সিকো ১৮২টি দেশের মধ্যে ১৪১তম অবস্থানে রয়েছে, যা দেশটিতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে। বিশ্লেষকদের মতে, মাসিয়াসকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা আরও বাড়াতে পারে।

প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম আরও প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহরে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস কী। তার ভাষায়, “এই অর্থ কোথা থেকে এলো—এ প্রশ্নের উত্তর জনগণ জানতে চায়।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

আয়ারল্যান্ড হতে আশ্রয়প্রার্থী ফিরিয়ে নেবে না যুক্তরাজ্যঃ ডাউনিং স্ট্রিট

কাতারের ঘুষ কেলেঙ্কারিই কি নেতানিয়াহুকে ডোবাবে

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আহ্বান মার্কিন কংগ্রেস ওম্যানের