যুক্তরাজ্যের নতুন সীমান্তনীতি কার্যকরের পর দ্বৈত নাগরিকদের জন্য কঠোর পাসপোর্ট বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে একাধিক ব্রিটিশ তরুণ-তরুণী বিদেশে আটকে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় অবশ্যই ব্রিটিশ পাসপোর্ট (মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও) অথবা উপযুক্ত অনুমতিপত্র দেখাতে হবে, অন্যথায় বিমান সংস্থাগুলো তাদের বহনে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় ডেনমার্কে অবস্থানরত ১৬ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ শিক্ষার্থীকে ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হয়নি, কারণ তার কাছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছিল না। এর ফলে সে দীর্ঘ সময় ধরে দেশে ফিরতে পারেনি এবং তার শিক্ষাজীবনেও ব্যাঘাত ঘটেছে।
অন্যদিকে, অক্সফোর্ডশায়ারের ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে আটকে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রমণে অংশ নিতে গিয়ে তিনি নতুন নিয়ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আংশিক ফরাসি বংশোদ্ভূত হওয়ায় তার ব্রিটিশ পাসপোর্ট প্রস্তুত ছিল না, ফলে ফেরার সময় তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
একইভাবে, ১৮ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ড্যানিশ তরুণী মুম্বাইয়ে ট্রানজিট অবস্থায় আটকে পড়েন। পাসপোর্ট না থাকায় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি এবং তিনি বিমানবন্দরে রাত কাটাতে বাধ্য হন। তার পরিবার জানায়, নতুন নিয়ম সম্পর্কে পূর্বে কোনো ধারণা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ইয়র্কশায়ারের এক পরিবার তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের আগমনের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত তাদের পরিবারের সদস্যরা শিশুদের জন্য ব্রিটিশ পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে না পারায় যাত্রা স্থগিত করেছেন। এতে দীর্ঘদিনের পারিবারিক পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বহু ব্রিটিশ নাগরিকও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। নবজাতক সন্তানদের জন্য দ্রুত পাসপোর্ট সংগ্রহ সম্ভব না হওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পাসপোর্ট প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং সীমিত সময়সূচির কারণে বিদেশে অবস্থানকারীরা বিশেষভাবে বিপাকে পড়ছেন।
সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই নতুন নিয়ম সম্পর্কে সরকারি মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের দাবি, পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় অনেকেই সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারেননি।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হলেও তা সব নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য কোনো ব্যতিক্রম না থাকায় পরিবারগুলো বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমাধান ও অন্তর্বর্তীকালীন সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন, যাতে হঠাৎ করে তৈরি হওয়া এই জটিল পরিস্থিতি থেকে তারা মুক্তি পেতে পারেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

