TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণঃ ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অভিযান, ইউরোপীয় মিত্রদের ‘গালে চড়’

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রতায় এক নজিরবিহীন ফাটল ধরিয়েছে।

 

২০২৬ সালে এসে ট্রাম্প যখন ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে সরাসরি দখল বা কিনে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন, তখন ইউরোপীয় নেতারা একে ন্যাটোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। এতদিন ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত দাবি এবং ন্যাটোর বাজেট বাড়ানোর চাপ মুখ বুজে সহ্য করলেও, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এবার ইউরোপকে একটি কঠিন অবস্থান বা ‘রেড লাইন’ টানতে হচ্ছে।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করেছেন।

বৈঠক শেষে রাসমুসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এটি ২০২৬ সাল এবং আধুনিক বিশ্বে মানুষের অধিকার নিয়ে এভাবে কেনাবেচা হতে পারে না। অন্যদিকে জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে আরও উসকে দিচ্ছেন বলে মনে করছেন ইউরোপীয় কূটনীতিকরা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে যেমন কৌশলগত ও খনিজ সম্পদের গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি কাজ করছে তার ব্যক্তিগত অহংবোধ বা ‘ইগো’।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, গ্রিনল্যান্ড জয় করাকে তিনি তার সাফল্যের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রয়োজনীয় মনে করেন। এমনকি যে দেশগুলো তার এই পরিকল্পনায় বাধা দেবে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এই পরিস্থিতিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ওপর যে মানসিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে অনেকেই ‘সেরা বন্ধুর গালে হুট করে চড় মারা’র মতো একটি অদ্ভুত আচরণ হিসেবে দেখছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ন্যাটো এখন এই সংকট মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নামছে। ট্রাম্পের প্রধান যুক্তি হলো গ্রিনল্যান্ড রাশিয়া বা চীনের হামলা থেকে সুরক্ষিত নয়। এই অজুহাত কেড়ে নিতে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করেছে। এছাড়া ইইউ গ্রিনল্যান্ডের জন্য তাদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার এবং গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ নতুন অফিস খোলার প্রস্তাব দিয়েছে।

ইউরোপীয় নেতারা এখন এটি প্রমাণ করতে মরিয়া যে তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করতে সক্ষম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিরাপত্তার জন্য নির্ভরশীল হলেও নিজেদের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেবে না।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.ক

আরো পড়ুন

মরক্কোতে ঈদুল আজহায় কোরবানিতে নিষেধাজ্ঞা, জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

বছরে ৩ কোটি মানুষকে ওমরাহর সুযোগ দিতে চায় সৌদি আরব

ভারতসহ ৪ দেশকে কঠোর হুমকি দিলেন ট্রাম্প