7.7 C
London
October 21, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছে ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদে ৬ দিনের নোটিশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার জন্য ছয় দিনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির রেসকোর্স এলাকার মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও) এ নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন।

গত সোমবার নোটিশটি জারি করা হয়। তবে নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে মসজিদটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান এবং মসজিদের ঐতিহ্যগত স্বীকৃতি ঘিরে বিরোধ তৈরি হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে সেখানে নামাজ আদায় এবং মুসল্লিদের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, দিল্লি হাইকোর্ট ওই এলাকার উচ্ছেদ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে যাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে, তাদের জন্য প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন এলাকায় শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মসজিদটি রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল তার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

প্রতিনিধিদলের পক্ষে মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি জানান, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেটে উল্লেখিত এনডিএমসির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত সংশোধিত তালিকাতেও এর উল্লেখ রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও এনডিএমসির কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে। পাশাপাশি আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দ্য ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পর রিজিজু বিষয়টি সমাধানে ‘সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা’ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেছেন, গত ছয় মাসে বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দ্য হিন্দুস্তান গেজেট-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে বোর্ড শুধু এনডিএমসিকে চিঠি দিয়েছে।

হারুনের দাবি, মসজিদে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় পানি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ওয়াক্‌ফ বোর্ডকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পরে নিজে মামলা করার অনুমতি চাইলেও বোর্ড আইনি পদক্ষেপ নেয়নি এবং তাকেও আদালতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইমাম আরও দাবি করেন, মসজিদটি স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। ২০২১ সালে পরিচালিত এক জরিপেও একে অবৈধ স্থাপনা বা দখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মসজিদটি রক্ষায় শুভাকাঙ্ক্ষী ও ন্যায়বিচারপ্রত্যাশীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন হারুন। তার অভিযোগ, এ ধরনের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওয়াকফ বোর্ড মসজিদটির পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

মোদির সরকারি বাসভবনের আশপাশে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ বিরোধ সামনে এসেছে। ওই এলাকায় রেসকোর্স রোডের বস্তিবাসীদেরও সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

সূত্রঃ দ্য ওয়্যার\ দ্য হিন্দুস্তান গেজেট

এমকে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরী ‘খেলনা’—মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষ

ভারতে অণ্ডকোষ কালোবাজারে বিক্রির লোভে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে ২৭ মে, বাংলাদেশে ২৮ মে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা