TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নিপীড়নের দাবি করা মার্কিন নাগরিকের আশ্রয় আবেদন বাতিল, তবুও পাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের ভাতা

বিশের কোঠায় বয়সী এক মার্কিন নাগরিক, যিনি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পরপরই আশ্রয়ের আবেদন করেন। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দাবি করেন যে বর্ণ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি নিপীড়নের শিকার এবং সেখানে ফেরত পাঠানো হলে ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

 

যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর তাকে লন্ডনের বিভিন্ন অভিবাসী হোটেলে রাখা হয় এবং আশ্রয় আবেদন যাচাই চলাকালে তার থাকার ব্যবস্থা ও ন্যূনতম জীবনযাপনের খরচ রাষ্ট্র বহন করে। তবে গত গ্রীষ্মে হোম অফিস তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে জানায়, উত্থাপিত অভিযোগগুলো “স্পষ্টতই ভিত্তিহীন” এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো অধিকার তার নেই।

হোম অফিসের সিদ্ধান্তপত্রে তাকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সতর্ক করা হয় যে, অন্যথায় তাকে জোরপূর্বক অপসারণের মুখে পড়তে হতে পারে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয়তা, অভিবাসন ও আশ্রয় আইন ২০০২-এর ধারা ৯৪ অনুযায়ী তার সুরক্ষা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দাবি ভিত্তিহীন হিসেবে প্রত্যয়ন করা হয়েছে।

ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি এবং চার্চ অব জিসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্টস (এলডিএস বা মরমন চার্চ)-এর সদস্য হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের ঘটনাও ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত গেলে তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবে।

তবে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কয়েক মাস পরও তাকে যুক্তরাজ্য থেকে প্রত্যাবাসন করা হয়নি। বরং পরে তিনি আরও সহায়তা পান—এর মধ্যে অস্থায়ী আবাসন, খাদ্য সহায়তা এবং নগদ ভাতা রয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে গৃহহীন হিসেবে চিহ্নিত করার পর স্থানীয় পর্যায়ে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কাউন্সিলের এক কর্মী তাকে জানান যে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকদের মতোই কিছু সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। এই বিষয়টি আশ্রয়প্রার্থী ও গৃহহীন সহায়তা ব্যবস্থার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

একপর্যায়ে তিনি স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে সম্মত হন এবং আর্থিক সহায়তা ও বিমানের টিকিটের প্রস্তাব পান। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট জব্দ করে। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন তাকে উড়তে অযোগ্য ঘোষণা করায় যাত্রা বাতিল হয় এবং তিনি ভ্রমণ নথিহীন অবস্থায় আটকে পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে না পেরে এবং যুক্তরাজ্যে নিজের অবস্থান বৈধ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি মার্কিন দূতাবাসের সহায়তা চান। একাধিকবার ফেরার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবার লন্ডনের ইজলিংটন এলাকায় ফিরে যান, যেখানে তাকে গৃহহীন হিসেবে বিবেচনা করে থাকার ব্যবস্থা ও খাবার সরবরাহ করা হয়। বড়দিনে তিনি কাউন্সিল-সমর্থিত গৃহহীনদের খাবার কর্মসূচিতেও অংশ নেন এবং পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে বাজেট হোটেলে অবস্থান করেন।

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারির পর যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পান না, যদি না জন্মের সময় অন্তত একজন অভিভাবক ব্রিটিশ নাগরিক হন বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি থাকে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়, তবে এই ব্যক্তি সে সুযোগও পাননি।

ওই ব্যক্তি জানান, তিনি যে সহায়তা পেয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞ, তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে তিনি “অকার্যকর” বলে মন্তব্য করেন এবং নিজেকে দুই ব্যবস্থার মাঝখানে আটকে পড়া একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এদিকে ইজলিংটন কাউন্সিল আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের ভাতা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কাউন্সিলের এক মুখপাত্র বলেন, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা কাউকে আর্থিক সহায়তা বা সামাজিক বাসস্থান দেওয়া হয় না, তবে গৃহহীনদের জন্য পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানে অংশীদার সংস্থার সঙ্গে কাজ করা হয়।

হোম অফিস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন ওই ব্যক্তিকে উড়তে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল এবং তাকে দ্রুত অপসারণের জন্য কাজ চলছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, বর্তমান সরকারের আমলে যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার না থাকা ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে অপসারণ করা হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

আব্রামোভিচের সম্পদ জব্দ, বিপাকে চেলসি

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের বর্ডার সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র সচিব

নিউজ ডেস্ক

পিআইপি দাবিদারদের ১৫ হাজার পাউন্ড পাওয়ার সম্ভাবনা