TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নীরব মোদিকে ঘিরে যুক্তরাজ্য-ভারত কূটনৈতিক টানাপোড়েন

ভারতের পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদিকে প্রত্যর্পণ না করার জেরে যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করেছিল বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। তার এই বক্তব্য নতুন করে দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ, অভিবাসন সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

দ্য টেলিগ্রাফ-এর পডকাস্ট সিরিজ দ্য ডায়মন্ড কিং-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রীতি প্যাটেল বলেন, লন্ডনে গ্রেপ্তারের সাত বছরেরও বেশি সময় পরও নীরব মোদিকে ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় ভারত সরকার “অত্যন্ত ক্ষুব্ধ” ছিল। তার দাবি, এই ক্ষোভের প্রতিক্রিয়াতেই দিল্লি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতা কমিয়ে দেয়।

প্রীতি প্যাটেলের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দায়িত্বকালে ভারতীয় নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করা হতো এবং ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী ও ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের বহনকারী চার্টার ফ্লাইট গ্রহণেও ভারত অনীহা দেখাত। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ভারতের সম্মতি আদায় করা ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, নীরব মোদি ও অন্যান্য আলোচিত প্রত্যর্পণ মামলাকে কেন্দ্র করে ভারত যুক্তরাজ্যের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে বিষয়টি ব্যবহার করেছিল।

বর্তমানে ৫৫ বছর বয়সী নীরব মোদির বিরুদ্ধে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থ দিয়ে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গয়নার ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। তবে নীরব মোদি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, কর্তৃপক্ষ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান না চালালে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হতো।

২০১৯ সালে লন্ডনে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে নীরব মোদি যুক্তরাজ্যে কারাগারে রয়েছেন এবং প্রত্যর্পণ ঠেকাতে একাধিক আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২১ সালে প্রীতি প্যাটেল তার প্রত্যর্পণে অনুমোদন দিলেও মামলাটি এখনও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদনও করেছিলেন, যা হোম অফিস ও আদালত উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নীরব মোদির আটকাবস্থায় এনএইচএসের চিকিৎসা গ্রহণ এবং কারাগারে তাকে রাখার পেছনে ব্রিটিশ করদাতাদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে।

এদিকে আরেক ভারতীয় ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়ার প্রত্যর্পণ মামলাও এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কিংফিশার গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান মালিয়াও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং নিজের প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে অভিবাসন হেফাজতে থাকা ৩,০৮৯ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে মাত্র ৭৩৭ জনকে ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালের হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০,৭০৬ জন ভারতীয় নাগরিক ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন, যা সে সময় সর্বোচ্চ সংখ্যার মধ্যে ছিল। তবে এ ধরনের পরিসংখ্যান বর্তমানে আর নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না।

প্রীতি প্যাটেল পুরো পরিস্থিতিকে ব্রিটিশ অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বলে মন্তব্য করে বলেন, অর্থশালী ব্যক্তিরা ব্যয়বহুল আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছেন, যার আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে ব্রিটিশ করদাতাদের।

তবে প্রীতি প্যাটেলের অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে—এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সরকারি প্রমাণও প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিধিতে কারিগরি সংশোধনঃ জুলাই-আগস্ট ২০২৬-এর পরিবর্তনসমূহ

নতুন বছরে বাড়লো প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের সুপারমার্কেটগুলোর মাংস বিক্রিতে নতুন নিয়ম

নিউজ ডেস্ক