১৫ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘মুক্তি’ ম্যাগাজিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার লোভে সাবেক ছাত্রলীগের ধান্দাবাজ, চোর-ছেঁচড় ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদীরা এনসিপিতে জড়ো হয়েছেন। দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, এনসিপির পরিণতি ফ্রিডম পার্টির মতো হতে পারে। বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা এবং নেপালের গণ-আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্দোলনের পার্থক্য নিয়েও মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তি তুলে ধরে নুর বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতি করতে পারে, তাহলে আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না—সেই প্রশ্নও বিবেচনায় আসা উচিত। তার বক্তব্য, জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের যুক্তি সামনে আসতে পারে।
নেপালের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের তুলনা করে নুর বলেন, নেপালে আন্দোলনে যুক্ত তরুণেরা নিজেদের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতি বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। বিপরীতে, বাংলাদেশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি ছাগল চুরি, ল্যাপটপ চুরি, রাজনৈতিক সুবিধাবাদ এবং ছাত্রলীগে থেকে গোপনে কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এ ধরনের ব্যক্তিরা পরে এনসিপিতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় দেশের ক্ষতি করেছেন।
নেপালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে। প্রথম আলোর এক বিশ্লেষণে নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নির্বাচনী সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের এনসিপির নির্বাচনী ফলাফলের তুলনা করা হয়। সেখানে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে না পারার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
নুরের বক্তব্যে ফ্রিডম পার্টির প্রসঙ্গ এসেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় জড়িত কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে ফ্রিডম পার্টি গঠন করেন। দলটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও ওঠে।
এই ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে নুর এনসিপির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, একসময় যারা নিজেদের নায়ক মনে করতেন, পরবর্তী সময়ে তারা খলনায়কে পরিণত হয়েছেন এবং তাদের কয়েকজনের ফাঁসি হয়েছে।
এনসিপির নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও কঠোর মন্তব্য করে নুর বলেন, তার ধারণা, তারা যেসব কাজ করেছেন, সেসবের কারণে দেশে থাকলে কারাগারে যেতে হতে পারে, অন্যথায় দেশ ছেড়ে পালানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি চান না তাদের ফাঁসিতে ঝুলতে হোক।
সূত্রঃ নিউজ নাও-২৪ / দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
এমকে

