6.5 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

পরিবার পুনর্মিলন অধিকার বন্ধ, স্থায়ী বসবাসে নতুন শর্ত আনছে যুক্তরাজ্য সরকার

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আর থাকছে না পুনর্বাসন ও পরিবার পুনর্মিলনের “গোল্ডেন টিকিট”। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দিয়েছেন, আশ্রয়প্রাপ্তরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ত্রী বা সন্তানদের আনতে পারবেন না এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকারও আর নিশ্চিত থাকবে না।

ডাউনিং স্ট্রিটের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমাজে অবদান রাখা ব্যক্তিরাই কেবল ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাবেন। স্টারমার স্পষ্ট করে বলেন, “যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যাবে অবদান রাখার মাধ্যমে, মানবপাচারকারীর হাতে টাকা দিয়ে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে নয়।”

বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীরা পরিবারকে যুক্তরাজ্যে এনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারলেও নতুন নীতি সেই সুযোগ কমিয়ে আনবে। সরকারের এক সূত্র জানায়, এ পদক্ষেপ অভিবাসীদের আকর্ষণ কমাতে নেওয়া হয়েছে, কারণ ইউরোপে অনেকেই সুবিধাজনক দেশ খুঁজে ‘আশ্রয় কেনাকাটা’ করছে।

এই পদক্ষেপ রিফর্ম পার্টির কড়া প্রস্তাবের পাল্টা উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ফারাজের নেতৃত্বাধীন দল সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিল নন-ইইউ নাগরিকদের ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) বাতিল করে তাদের কঠোর শর্তে পুনরায় ভিসার আবেদন করতে হবে।

সরকার এরই মধ্যে পরিবার পুনর্মিলন রুট স্থগিত করেছে, যা দিয়ে স্ত্রী/স্বামী ও ১৮ বছরের নিচের সন্তানদের আনা যেত। শুধু গত এক বছরেই এ পথে ৪,৬৭১টি ভিসা দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি নতুন নিয়মে স্থায়ী বসবাসে ইংরেজি দক্ষতা, অপরাধমুক্ত রেকর্ড এবং সমাজে অবদানের প্রমাণ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।

তবে মানবাধিকার ও শরণার্থী অধিকার সংস্থাগুলো সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান বিশ্লেষক জন ফিটনবি বলেছেন, “অধিকার সীমিত করে বিপজ্জনক যাত্রা ঠেকানো সম্ভব নয়। পরিবার পুনর্মিলন বন্ধ করলে আরও বেশি মানুষ পাচারকারীদের হাতে পড়ে যাবে।”

ফ্রিডম ফ্রম টর্চারের পরিচালক কোলবাসিয়া হাউসসু বলেন, “আমরা যারা আশ্রয় চাই, তারা কেবল নিরাপত্তা ও পরিবার নিয়ে নতুন জীবন গড়তে চাই। পরিবার পুনর্মিলন বন্ধ করা আমাদের প্রান্তিক করে রাখবে এবং নিরাপত্তাহীন করবে।”

স্টারমার সম্প্রতি ছোট নৌকা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক আইন ব্রিটিশ আদালতে কীভাবে ব্যাখ্যা হচ্ছে তা পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন। তিনি ছোট নৌকাগুলোকে ‘ফারাজ বোটস’ আখ্যা দেন, কারণ ব্রেক্সিটের পর থেকে এ ধরনের অভিবাসনের হার বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
০২ অক্টোবর ২০২৫

আরো পড়ুন

ইউকেতে করোনা ভাইরাসের “ভুয়া” সনদ!

ট্রাম্পের সফর শেষে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ব্রিটেন

অপেক্ষমাণ তালিকা কমাতে এনএইচএসে আসছে ‘অনলাইন হাসপাতাল’: স্টারমারের ঘোষণা