সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। এই বৈঠকে খুনের মামলার পলাতক আসামীর উপস্থিতি প্রমাণিত হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশি ও আইনি রেকর্ড বলছে, উক্ত আসামী একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে আইনের হাত এড়িয়ে রয়েছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী ব্যারিস্টার নজির হোসেন এবং প্রবাসী ব্যবসায়ী আব্দুল মুকিত অংশ নেন। তবে সেই বৈঠকে হত্যা মামলার পলাতক আসামী হাবিবুর রহমান ঝানু (পিতা মখলিস আলী) উপস্থিত ছিলেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। ঝানুর বাসস্থান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে।
হাবিবুর রহমান ঝানুর বিরুদ্ধে জি.আর নম্বর ১২৭/৯৬ এবং দায়রা নম্বর ২৮/৯৯ হত্যা মামলা রয়েছে। আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিলেও তিনি বহু বছর ধরে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। এমন একজন গুরুতর অভিযুক্ত অপরাধীর সাথে জেলা প্রশাসকের সাক্ষাতের বিষয়টি প্রশাসনিক ও নৈতিক দিক থেকে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমের ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। সংবাদ মাধ্যমের সাথে ফোনালাপে তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তার এই নীরবতা বিষয়টিকে আরো গভীর ও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও আইনজ্ঞরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসন কি বিত্ত বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আইনের প্রয়োগে দ্বিচারিতা করছে? অনেকের মতে, এই ঘটনা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে প্রায়ই আলোচিত ‘এক দেশ-দুই আইন’ এর কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
জনরোষ ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। তবে, একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকের সরাসরি যোগাযোগ রাষ্ট্রের চোখে অপরাধীর প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার শামিল বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

