20.4 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

প্রতিবেশীকে উচ্ছেদ করে রাস্তা নির্মাণ করলেন সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর

সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সব সময় মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেন। অথচ তিনি নিজের স্বার্থে প্রতিবেশীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। নিজ বাড়িতে প্রবেশের জন্য একটি সরকারি রাস্তা থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিবেশীদের উচ্ছেদ করে আবার নতুন করে আরেকটি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে কোনো রাস্তার প্রয়োজনই ছিল না।

প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০২ মিটার রাস্তা নির্মাণ করেছেন। রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মও মানা হয়নি। এ ছাড়া ১২ ফিটের রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও ১৬ ফিট আবার রাস্তার কিছু অংশে ১৮-১৯ ফিট রাস্তা নির্মাণ করেছেন। সরেজমিন ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলোঘর ইউনিয়নের ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক নিবাস।

এখন আর সেখানে তার পরিবারের কেউ বসবাস করেন না। ষোলোঘর বাসস্ট্যান্ড থেকে আদিলুর রহমান খানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০ ফিটের ভালো একটি রাস্তা রয়েছে। অথচ তিনি নিজ বাড়ির যাতায়াত সুবিধার জন্যই প্রতিবেশীদের উচ্ছেদ করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে প্রতিবেশীর বাড়িতে লিজ সম্পত্তির সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি প্রতিবেশীর বাড়ির ভিতরে স্থাপন করেছেন। নিজের বাল্যবন্ধুকে ব্যবসায়িক সুবিধা দিতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবেশীর পৈতৃক বসতবাড়িতে লিজ সম্পত্তির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে লিজ সম্পত্তির দোহাই দিয়ে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত আক্রোশে তাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছেন।

প্রতিবাদ করলে মামলার হুমকি দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করেছেন। ভুক্তভোগী প্রতিবেশী রুবেল জানান, ষোলোঘর বাসস্ট্যান্ড থেকে শাখা রাস্তাটি ১০ ফিটের অথচ তিনি তার বাড়িতে ঢুকতে ১৭ ফিটের রাস্তা করেছেন। আমার ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারি লিজ সম্পত্তির সাইনবোর্ড টানিয়ে দিছে। সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক সাইনবোর্ড সরিয়ে নিছে।

যদি লিজ সম্পত্তিই হয়, তাহলে এখন কেন আবার সাইনবোর্ড সরিয়ে নিছে। ভুক্তভোগী আরেকজন তার ভেঙে দেওয়া বাড়ি দেখিয়ে অভিযোগ করে বলেন, এটা আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি অথচ আমাদের বাড়ি ভেঙে দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। আমার ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ভর্তুকি দেওয়া তো দূরে থাক, কোনো কথাও বলেনি।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, এখানে ৫০ বছর আগের একটা রাস্তা ছিল। এখানে রাস্তার কোনো দরকার নেই। তার পরও উপদেষ্টা নিজের স্বার্থে প্রতিবেশীদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে আবার রাস্তা বানাইছে। এ রাস্তা নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ওরিও কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার সাইফুর রহমান জানান, ১২ ফিটের অনুমোদনে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। পরে গাড়ি ঢুকতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পুনরায় কোনো কোনো জায়গায় ১৬ ফিট আবার কোনো জায়গায় ২০ ফিট রাস্তা নির্মাণ করতে হয়েছে।

এটা প্রকল্প পরিচালক ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি ও তদারকিতে হয়েছে। আমি এখনো বাড়তি কাজের টাকা পাইনি। এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলাম জানান, আমরা কাজটি সুন্দরভাবে যাতে হয় সেজন্য তদারকি করেছি মাত্র। জেলা প্রকৌশলী এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ব্যক্তিগত সহকারী বলেন, স্যার বর্তমানে মিটিংয়ে আছেন। আপনাকে এ বিষয়ে পরে জানানো হবে। আদিলুরের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ দৈনিক প্রতিদিন

এম.কে

আরো পড়ুন

ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেফতার

দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন মিজানুর রহমান আজহারী

সাবেক দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গ্রেপ্তার