18.8 C
London
June 17, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ইমিগ্রেশনে বাধাঃ কূটনৈতিক প্রতিবাদ বাংলাদেশের

ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন জটিলতায় পড়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দেশে ফিরে আসার ঘটনাকে “অনাকাঙ্ক্ষিত” ও “দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই ঘটনায় কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান কুমার বঢ়েকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। দিন শেষে আমরা এ বিষয়ে জানাবো।”

একই বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “ঘটনাটি অবশ্যই স্বাগত জানানোর মতো নয়। এ ধরনের ঘটনা আমরা প্রত্যাশা করি না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নিতে রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন জাহেদ উর রহমান। সোমবার শুরু হওয়া ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।

সফরের আগে কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। এছাড়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকেও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

তবে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট যাচাই করে তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বিমানবন্দরে অবস্থান করতে হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদেরও মুখোমুখি হতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, জাহেদ উর রহমান যে সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন, সেটি ভারত সরকারের সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণ তালিকায় বা ‘ফ্ল্যাগড’ অবস্থায় ছিল। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হলেও সফরে তিনি সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। পাশাপাশি তিনি কয়েক বছর আগে নেওয়া একটি সার্ক স্টিকার (সার্ক ভিসা) ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের তৎপরতার পর শেষ পর্যন্ত জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নিজেই দিল্লিতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন।

পরবর্তীতে তিনি দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো যান এবং সেখান থেকে সোমবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে জাহেদ উর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনার জেরে সোমবার বিকেল তিনটার দিকে ঢাকায় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান কুমার বঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহিদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র ভারতীয় কূটনীতিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে অস্বস্তিকর বার্তা বহন করে। বিশেষ করে সফরের বিষয়ে আগাম অবহিত করার পরও বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এবং ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

আরো পড়ুন

মুস্তাফিজ বিতর্কে যোগ দিলেন কুদ্দুস বয়াতি

বাংলাদেশের গুদামে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কতোটা নিরাপদ?

অনলাইন ডেস্ক

ইজারা দেওয়া হচ্ছে বেনজীরের সাভানা ইকো পার্ক