10.1 C
London
March 11, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পবিত্র রমজান মাসে দেশের বরেণ্য আলেম-ওলামা ও এতিম শিশুদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন মাদরাসার আলেম, মাশায়েখ ও এতিম শিশুরা অংশ নেন।

ইফতারস্থলে প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রী আলেম-ওলামাদের টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং বিশিষ্ট আলেম শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আব্দুল মালেক।

দেখা যায়, আলেমদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরামর্শ নেন। এ সময় শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ প্রধানমন্ত্রীকে দোয়া করে দেন এবং স্নেহভরে মাথায় হাত রাখেন।

এই মুহূর্তগুলোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণকে তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন।

তাদের মতে, বাবার মতোই আলেম-ওলামা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করার ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আরও মন্তব্য করেছেন, দেশের মানুষ এমন একজন প্রধানমন্ত্রীই চেয়েছিল—যার মধ্যে অহংকার থাকবে না, যিনি সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারবেন এবং গরিব-দুঃখী মানুষের কষ্ট বুঝবেন।

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আপন করে নেওয়ার মানসিকতাই একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রনেতার বড় গুণ বলে মনে করছেন অনেকে।

অনেকে আবার দোয়া করে লিখেছেন, আল্লাহ যেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুস্থতা ও দীর্ঘ হায়াত দান করেন এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দেন।

আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী এতিম শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং শিশুদের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তোলেন। এতিম শিশুদের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো তিনি গভীরভাবে উপভোগ করেন।

পরে ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রমজান ত্যাগ ও সংযমের মাস হলেও অনেকেই এটিকে লাভের মাসে পরিণত করার চেষ্টা করেন, যা অনুচিত।

তিনি ব্যবসায়ীসহ সবাইকে মানুষকে কষ্ট না দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিমদের হক আদায়ের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমদের প্রতি সমাজের বিত্তবানদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার যাকাত দেওয়া হয়। তবে পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্টভাবে তা বণ্টন করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি প্রস্তাব দেন, দেশে প্রায় চার কোটি পরিবারের মধ্যে দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত যাকাত দেওয়া গেলে অনেক পরিবার স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। এ জন্য আলেম-ওলামাদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ সময় যাকাত ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শেষে দেশ ও জনগণের কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া চান তিনি এবং উপস্থিত সবার মঙ্গল কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দেশ ও দেশের কল্যাণ কামনা করে এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা কোনো মতে এক কথা নয়ঃ কাদের সিদ্দিকী

নোবেলসহ ৯ ধরনের পুরস্কারের আয়ে দিতে হবে না কর

পদত্যাগ করলেন ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান