TV3 BANGLA
বাংলাদেশসিলেট

ফেসবুকে মন্ত্রীর সমালোচনা করতেই থানায়ঃ মন্ত্রী আরিফুল হককে ঘিরে প্রশ্ন

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর জুবায়ের আহমদ নামে এক শিক্ষক ও পাথর ব্যবসায়ীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। প্রায় ১০ ঘণ্টা থানায় থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুলের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জুবায়ের আহমদের বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামে। পাথর ব্যবসার পাশাপাশি তিনি কলাবাড়ী কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার জুবায়ের নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।’

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর ও সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাথরমহাল চালুর পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে দেওয়া ওই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে থানায় নেওয়া হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উসমান গনি জানান, জুবায়েরের ফেসবুক আইডি থেকে করা পোস্ট ও মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। অন্য কেউ তার আইডি ব্যবহার করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিএনপি নেতা শওকত আলী বাবুলের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

জুবায়েরকে থানায় নেওয়ার বিষয়ে ওসির বক্তব্যেও একাধিকবার পরিবর্তন দেখা যায়। প্রথমে তিনি জানান, জুবায়ের থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে বলেন, তাকে আটক করা হয়েছে। তবে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে কেউ কেন আত্মসমর্পণ করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে এবং তখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

জিজ্ঞাসাবাদের কারণ ব্যাখ্যা করে ওসি বলেন, আইন অনুযায়ী পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। পোস্টটি জুবায়ের নিজে দিয়েছেন, নাকি অন্য কেউ তার মোবাইল ফোন বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন, তা যাচাই করা হচ্ছিল। তবে কী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, জুবায়েরকে থানায় নেওয়ার পর তার ফেসবুক পোস্টটি আর দেখা যাচ্ছিল না বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে সেটি দেখা যাচ্ছিল না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, কোনো ফেসবুক পোস্টের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন নাগরিককে থানায় নিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষেত্রে কী অভিযোগ ছিল এবং এর আইনগত ভিত্তি কী—তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জে পাথরমহাল চালুর বিষয়টি স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। পাথর উত্তোলন ও ব্যবসার কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুবায়েরের পোস্টেও এ পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ পেয়েছিল।

তবে জুবায়েরের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল কি না, তাকে থানায় নেওয়ার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল কি না এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় রাখার সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি কী ছিল, তা প্রকাশিত তথ্য থেকে স্পষ্ট নয়। পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি বলে জানিয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এমকে

আরো পড়ুন

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে চরম অস্থিরতা

পাচার হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনতে সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ গ্রেপ্তার